স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’—কতটা কার্যকর?

ডেল্টা টাইমস্ ডেস্ক:

লাইফস্টাইল

ঘুম থেকে উঠেই দিন শুরু হয় ফোন হাতে নিয়ে। এরপর সারাদিন কাজের ফাঁকে, অবসরে কিংবা ঘুমানোর আগে চলতে

2025-12-23T18:01:38+06:00
2025-12-23T18:01:38+06:00
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’—কতটা কার্যকর?
ডেল্টা টাইমস্ ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:০১ পিএম   (ভিজিট : ১৭৮)
ঘুম থেকে উঠেই দিন শুরু হয় ফোন হাতে নিয়ে। এরপর সারাদিন কাজের ফাঁকে, অবসরে কিংবা ঘুমানোর আগে চলতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং। সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটা অনেকের কাছে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। 

প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করলেও অতিরিক্ত স্মার্টফোনের ব্যবহার ধীরে ধীরে আসক্তি সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। কিন্তু এই ব্যাপারটি কী আসলেই কার্যকর? 

স্মার্টফোন আসক্তি বাড়ছে কেন? 

স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-কমেন্ট এবং স্বল্প সময়ের ভিডিও মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। এতে বারবার ফোন চেক করার প্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে দেখা দেয় মনোযোগ কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের দূরত্বের মতো সমস্যা। 

‘ডিজিটাল ডিটক্স’ কী? 

ডিজিটাল ডিটক্স বলতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার কমানো বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখাকে বোঝানো হয়। কারও ক্ষেত্রে এটি হতে পারে দিনে কয়েক ঘণ্টা, আবার কারো ক্ষেত্রে হতে পারে সপ্তাহান্তে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা। 

ডিজিটাল ডিটক্স কতটা কার্যকর? 

গবেষণা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিটক্স বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। নির্দিষ্ট সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে যেসব উপকার হবে- 

মনোযোগ বাড়ে: একটানা কাজ করার ক্ষমতা উন্নত হয়।

ঘুমের মান উন্নত হয়: রাতে স্ক্রিন টাইম কমালে ঘুম গভীর হয়। 

মানসিক চাপ কমে: তুলনা, নেতিবাচক খবর এবং অনলাইনের চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি মেলে।

সম্পর্কে উন্নতি আসে: পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে সময় বাড়ে। ফলে সম্পর্কে উন্নতি ঘটে। 

তবে কয়েকদিন ফোন থেকে দূরে থাকলেই যে স্থায়ী সমাধান মিলবে এমনটা নয়। ডিটক্স শেষে আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। 

কার্যকরভাবে ডিজিটাল ডিটক্স করবেন কীভাবে? 

নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন: ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে নিয়ম করে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করুন: অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।

বিকল্প অভ্যাস গড়ুন: ফোন ঘাঁটার পরিবর্তে বই পড়া, হাঁটা বা পরিবারের সঙ্গে গল্প করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

স্ক্রিন টাইম মনিটর করুন: প্রতিদিন ফোন ব্যবহারের সময় নিজেই দেখুন। ধীরে ধীরে এই সময় কমান। 

ডিজিটাল ডিটক্সই কি একমাত্র সমাধান? 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ডিটক্স কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। বরং এটি সচেতনতার একটি ধাপ। দীর্ঘমেয়াদে ফোন ব্যবহারে সুস্থ সীমা তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন। সেটি যেন জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে না নেয় সেদিকে নজর দিন। 


ডেল্টা টাইমস্/আইইউ









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ