
অবশেষে ব্রিটেনের অন্যতম সম্মানজনক উপাধি পেলেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবল অধিনায়ক ও বিশ্বজুড়ে পরিচিত ফ্যাশন আইকন ডেভিড বেকহ্যাম। ব্রিটিশ রাজা চার্লস তৃতীয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক সম্মাননাপত্রে ‘ক্রীড়া ও দাতব্য’ কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য শুক্রবার তাকে নাইটহুডে ভূষিত করেছে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার।
নাইটহুড উপাধি পাওয়ায় বেকহ্যাম এখন থেকে ‘স্যার ডেভিড বেকহ্যাম’ নামে পরিচিত হবেন। তার স্ত্রী, সাবেক পপ গায়িকা ও ফ্যাশন ডিজাইনার ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম হবেন ‘লেডি বেকহ্যাম’।
৫০ বছর বয়সী এই তারকা ২০০৩ সালে ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’-এর অফিসার খেতাব পেয়েছিলেন। সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে কম মর্যাদার একটি স্বীকৃতি। পরে ভিক্টোরিয়াও ফ্যাশন শিল্পে অবদানের জন্য একই সম্মাননা পেয়েছিলেন।
নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হওয়ার পর বেকহ্যাম বলেন, ‘পূর্ব লন্ডনে বেড়ে ওঠা একজন ব্রিটিশ হিসেবে এমন সম্মান পাবো ভাবিনি কখনও।
এটি সত্যিই আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে, এমন সব কাজ করতে পেরেছি যা আমাকে আনন্দ দেয়, আর সেই কাজের জন্যই স্বীকৃতি পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।’
বেকহ্যামের এই নাইটহুড পাওয়া অনেক বছরের প্রচেষ্টার ফসল। ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেকে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশ্বব্যাপী এক অনন্য ব্র্যান্ড হিসেবে।
কখনও সারং পরে প্রকাশ্যে আসা, কখনও মেকআপ ব্যবহার করার কথা বলা কিংবা ব্যতিক্রমী চুলের স্টাইল—সবই তাকে নিয়ে আলোচনা বাড়িয়েছে। তবে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সবসময়।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর ‘ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি’ তকমা পেয়েছিলেন তিনি।
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক আয়োজনের প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখার পরও তার নাইটহুড আটকে যায় কর-সংক্রান্ত একটি বিতর্কে। তবে পরে তিনি সেই বিতর্ক থেকে মুক্তি পান।
এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘স্যার বেকহ্যাম’ হয়ে উঠলেন তিনি—যা শুধু একজন ফুটবলারের নয়, একজন ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক দূতেরও অনন্য পরিচয়।