
বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এনইউবি) পাবলিক হেলথ বিভাগ গত ২৫ এপ্রিল এক প্রাণবন্ত ও অর্থবহ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। আয়োজনে টিকাদানের গুরুত্ব এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার নিয়ে আশপাশের এলাকাগুলো প্রদক্ষিণ করে।
শিক্ষার্থীরা পোস্টারে টিকাদান সংক্রান্ত বার্তা লিখে পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেন এবং শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সময়মতো টিকা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে সচেতনতা তৈরি করেন।
দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের তৈরি পোস্টার প্রদর্শনী। পোস্টারগুলোতে টিকাদানের সময়সূচি, শিশুদের জন্য টিকার উপকারিতা এবং টিকাদান বিষয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। তথ্যবহুল এবং ভিজ্যুয়ালি আকর্ষণীয় এসব পোস্টার সাধারণ দর্শকদের জন্য সহজবোধ্য ছিল।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা জাতীয় টিকাদান সময়সূচি নিয়ে তৈরি লিফলেট আশপাশের বাড়ি, দোকান এবং পথচারীদের মধ্যে বিতরণ করেন। লিফলেটে কোন বয়সে কোন টিকা নিতে হবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কীভাবে বিনামূল্যে টিকা পাওয়া যায় — তা সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়।
পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. (লে. কর্নেল) সরদার মাহমুদ হোসেন শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “এই কর্মসূচি প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের জ্ঞান অর্জন করছে না, বরং বাস্তবে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পাঠদান নয়, বরং তাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে গড়ে তোলা।”
কর্মসূচির শেষে ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টিকাদানের গুরুত্ব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকার হার বাড়ানোর কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে, তারা ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য নেতাদের গড়ে তুলতে এবং সবার জন্য টিকাদান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।