যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা

রায়হান আহমেদ তপাদার

মতামত

মাসের পর পর ধরে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার করে আশ্বস্ত করার পরও জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো

2023-12-30T12:32:21+06:00
2023-12-30T12:32:21+06:00
রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভর করছে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১২:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৩৪০)
মাসের পর পর ধরে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনে বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার করে আশ্বস্ত করার পরও জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো সমরনেতার পক্ষেই এই তত্ত্ব বিশ্বাস করা সম্ভব নয় যে ইউক্রেন যুদ্ধে জিতবে। আইন প্রণেতারা প্রায় দুই বছর ধরে এ যুক্তি শুনতে শুনতে এখন উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন যে বাইডেন প্রশাসন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন কিংবা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কেউই বলছেন না, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন কীভাবে জিতবে কিংবা ইউক্রেন এগিয়ে যাবে তার পরিকল্পনাই-বা কী। মেক্সিকো সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা চালু করার যে দাবি রিপাবলিকানরা করে আসছেন, তার অগ্রগতির ক্ষেত্রেও রিপাবলিকানরা খুশি নন। সে কারণেই মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষেই ইউক্রেনের জন্য পদক্ষেপগুলো অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে। বড়দিন ও নববর্ষের ছুটি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে অগ্রগতি ঘটার সুযোগ নেই।

বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন সমস্যাটি এখন অর্থায়ন জোগানোর চেয়েও গভীর সমস্যা। আইনপ্রণেতারা এখন বুঝতে পারছেন, এই যুদ্ধে জেতা যাবে না। তাঁরা এ ব্যাপারে অবাক হচ্ছেন, জেলেনস্কিকে সমর্থন দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসন কি ফাঁদে আটকা পড়েছে।ইউরোপীয় কাউন্সিলে এখন উদারবাদ ও জনতুষ্টিবাদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সামনের বছরগুলো কেমন যাবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধের জয়-পরাজয়ের ওপর। চলতি বছর ইউরোপের ২০টি দেশের পর্যালোচনায় দেখা গেছে দুই ধরনের ইউরোপ। এ মহাদেশের বড় অংশ এখনো ইউরোপ। বিদ্যুৎগতির ট্রেনে চেপে আপনি একটির পর একটি সীমান্ত পেরিয়ে যাবেন, খেয়ালও করবেন না। এসব দেশ মূলত উদার গণতান্ত্রিক দেশ, যারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করে নিয়েছে। কিন্ত বর্তমান যুদ্ধের সমাধান কোন পথে তা নিয়ে সবাই সন্দিহান।

বিশ্ব রাজনীতিতে পরস্পরবিরোধী নানা উপাদান আছে। এদের কোনো কোনোটি সম্পর্কযুক্ত, আবার কোনো কোনোটি স্বতন্ত্র। ইউরোপীয় অনেক দেশের সরকার আছে যেগুলো কেন্দ্র-বাম বা কেন্দ্র-ডানপন্থী। কখনো কখনো সরকারগুলো আবার বিপরীত ধ্যান-ধারণার দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। কিন্তু তারপরও তারা সবাই চায় উদারবাদী গণতন্ত্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যকর থাকুক। এই তো সেদিন পোল্যান্ডে আমরা ডোনাল্ড টাস্কের নেতৃত্বে এমন একটি সরকারকে দায়িত্ব নিতে দেখলাম। উদারবাদী গণতন্ত্রকে ধ্বংসকারী একটি জনতুষ্টিবাদের সরকারকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তারা।অন্যদিকে,অতি ডানপন্থী জনতুষ্টি ও জাতীয়তাবাদী দলগুলোও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।গত বছর জর্জিয়া মেলোনির উত্থান ঘটেছে ইতালিতে, আঞ্চলিক নির্বাচনগুলোয় ভালো ফল করেছে জার্মানির অলটারনে- টিভ ফর ডয়েচেল্যান্ড (এএফডি),নেদারল্যান্ডে জিতেছেন খেয়ার্ট ভিল্ডার্স। হাঙ্গেরীয় নেতা ভিক্টর ওরবান এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রাসী। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ইইউর স্বার্থ ও মূল্যবোধবিরোধী কাজ করে চলেছেন। এই দুই ইউরোপ ইইউ সম্মেলনে একটি রাজনৈতিক যুদ্ধে লিপ্ত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ইউরোপ কি যুদ্ধের দিকে এগোবে, নাকি শান্তির দিকে, তারা কি একনায়কতন্ত্রের পক্ষে থাকবে, নাকি গণতন্ত্রের পক্ষে? তারা কি বিচ্ছিন্নতা চায়, নাকি ঐক্য। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের সামগ্রিক অভিযান শুরুর মধ্য দিয়ে প্রাচীর-পরবর্তী যুগের সমাপ্তি ঘটে। এই পর্বের সূচনা হয়েছিল ৯ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীরের পতনের মধ্য দিয়ে। এখন আমরা যে সময়কাল অতিক্রম করছি, তার কোনো নাম বা চরিত্র আমরা এখনো জানি না। রাজনীতিতে অন্য যেকোনো সম্পর্কের মতো সূচনাটা গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৪৫ সালের পরবর্তী কয়েক বছরে ইউরোপ কীভাবে পরিচালিত হবে, তার একটি মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। এই মানদণ্ড কয়েক দশক অক্ষুণ্নও ছিল, ঠিক যেমনটি আমরা দেখলাম ১৯৮৯ সালের পর থেকে কয়েক দশক অবধি।বিচক্ষণ ইউরোপীয় নেতারা এ কথা জানেন। হাজারো রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনগুলো এসব নিয়ে ওয়েবিনারে কথা বলছে। জার্মানি ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা পাল্টে গেছে। ন্যাটো থেকে নিরপেক্ষ দূরত্ব বজায় রাখার মনোভাব থেকে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন সরে গেছে। কিন্তু বৃহত্তর সমাজে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন স্পষ্ট নয়। এ বছরের শুরুতে গটিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রশ্ন রেখেছে, ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ‘টুয়েন্টিটুআরস’ নামে কোনো নতুন ইউরোপীয় প্রজন্ম তৈরি হবে কি না, যারা উন্নততর ইউরোপ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে? এর জবাবে এসেছে, তা মোটেই উৎসাহব্যঞ্জক না। এমনকি চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়াতেও মানুষ মাথা নেড়ে বলেছেন, তাঁরা এমন কিছুর সম্ভাবনা দেখছেন না। আরও পশ্চিমের দেশগুলো যেমন ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল অথবা আয়ারল্যান্ডে এই জবাব সুদৃঢ় ‘না’। এর পেছনে একটা কারণ হলো, ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপীয় ব্যবস্থার ব্যাপকতা, যা ১৯৮৯ সালের পর আরও ব্যাপক ও গভীর হয়। ন্যাটো ও ইইউভুক্ত দেশগুলো এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে যুদ্ধ তাদের সদর দরজায় এসে পৌঁছতে পারে। দেশের অভ্যন্তরে সমস্যার পাহাড়,মূল্যস্ফীতির কারণে কল্যাণ রাষ্ট্রগুলোয় প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই-এসব কারণে দেশগুলো আমাদের চারপাশের বিকট চ্যালেঞ্জ গুলোর মুখোমুখি হতে চাইছে না। হোক তা পূর্ব দিকে চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণে অভিবাসনের চাপ, উত্তরের বরফ গলা থেকে শুরু করে পশ্চিমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান।তাদের রাজনীতিকেরাও এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চান না,যদি নির্বাচনী জয় হাতছাড়া হয়ে যায়!

এই দুই ইউরোপের দ্বন্দ্বের মধ্যে এই বড়দিনের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছু সমস্যার সমাধান করতে চায়। এ সপ্তাহের ইউরোপিয়ান কাউন্সিলে ইইউ নেতাদের উচিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা, দেশটিকে সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া। বিশেষ করে, যখন ওয়াশিংটন বিপদের সম্মুখীন। কিন্তু ওরবান এ সবকিছুতেই ভেটো দিয়ে বসবেন। তাদের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়েও আলোচনায় বসতে হবে। এই ইস্যুতেও ইইউ দ্বিধাবিভক্ত এবং এখন পর্যন্ত অকার্যকর। যদিও এই দ্বন্দ্ব নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্পর্ককে হুমকিতে ফেলেছে। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হলে  সর্বনাশ হওয়ার আশঙ্কা আছে।এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষানীতি ও জোরদার করা প্রয়োজন। এই দুই ইউরোপের মধ্যে আসলে কোনটি টিকে থকবে? বছরজুড়ে এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপ। কারণ, ঐতিহাসিকদের তো নিশ্চয়ই এসব খবর জানার কথা। কিন্তু আসলে এর জবাব অপরিহার্যভাবে শুধু ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত আছে, এমন নয়। পুরোটাই নির্ভর করছে তাদের ওপর। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভুলে যাওয়া যুদ্ধে একজন বিস্মৃত যোদ্ধা। রাশিয়া যখন ইউক্রেনকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য আগ্রাসনের দুই বছর পূর্তি করতে চলেছে, তখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট খসে পড়া তারার মতো তাঁর উচ্চতা ও ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলেছেন।দুই বছর পুরোনো যুদ্ধটা এখন কোনোরকমে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া স্থবির যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয়দের অনন্য আক্রমণ অভিযান থমকে গেছে এবং প্রতিশ্রুত ‘বিরাট সাফল্য অর্জন’-এর ব্যাপারটা এখন একগুঁয়ে ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। ‘ইট মারার বদলে পাটকেল খাওয়ার’ বিষয়টি দুঃখজনক ভাবে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হয়ে গেছে।

তাছাড়া ক্ষোভের জায়গা দখল করে নিয়েছে নির্লিপ্ততা। যা-ই হোক, এ যুদ্ধের এখনকার যে গতিপ্রকৃতি তা থেকে বলা যায়, ‘বিজয়’ অনেক অনেক দূরের বিষয়। মনে হচ্ছে, বিশ্ব ইউক্রেন নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আরও খারাপ করে বললে, বিশ্ব এখন বিরক্ত। সে কারণে যেসব কলাম লেখক জেলেনস্কির সাহস ও ইউক্রেনের জনতার প্রতিরোধকে একসময় ধর্মোপদেশ বিলোনোর মতো করে নিয়মিতভাবে তাঁদের লেখায় তুলে ধরতেন, তাঁরা এখন অবলীলায় তাঁদের আগের অবস্থান ত্যাগ করেছেন। আমন্ত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অথবা পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়ার সময় চিরচেনা সবুজ সোয়েটার গায়ে দেওয়া জেলেনস্কিকে দেখে মনে হচ্ছে, নির্বোধ কিংবা অপ্রচলিত যোদ্ধা ও মুক্তিসংগ্রামী। ইউক্রেনের ‘বীর’ জনতার ‘ন্যায়’-এ যুদ্ধের প্রতি সংহতি জানিয়ে জন সাধারণের প্রতিবাদ সমাবেশও অনেক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। ইউক্রেন এখন আর সংবাদমাধ্যমের জরুরি ও সহানুভূতিজাগানিয়া সংবাদ নয়।জেলেনস্কি আর ইউক্রেন নিয়ে এখন একমাত্র খবর হচ্ছে, হোয়াইট হাউস থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়া অস্বস্তিকর খবর। জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল পলিটিকো খোঁচা মেরে শিরোনাম করেছে, ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁস হওয়া কৌশলনীতি বলছে, দুর্নীতি এখন সেখানকার সত্যিকারের হুমকি। এই সংবাদের শিরোনামের শব্দগুলো একই সঙ্গে ভয়ানক ও অমার্জিত। এটি আমেরিকানদের, নির্দিষ্ট করে বলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাহসী ইউক্রেনীয়দের প্রতি যে অটুট ভালোবাসা ছিল, তা যে কমতে শুরু করেছে, তারই লক্ষণ। পলিটিকো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে ‘বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউক্রেনের দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে যতটা বলছেন, তার থেকেও অনেক বেশি উদ্বিগ্ন। এই দুর্নীতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে পশ্চিমা মিত্রদের সরে যাওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এবং কিয়েভ দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিতে পারছে না।এটা জেলেনস্কির জন্য বিপদ,বড় বিপদ।ওদিকে দিগন্তে বড় আরেকটি ভয় উঁকি দিতে শুরু করেছে। জেলেনস্কির চিন্তা ও পরিকল্পনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারী ও অমঙ্গলে আলবাট্রস পাখির বোঝার মতো ঝুলে রয়েছেন। আজ থেকে এক বছর পর ওভাল অফিসে পুতিনের পোষা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের অর্থ হচ্ছে, হঠাৎ করেই অনেক কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া। ইউক্রেনের যুদ্ধ ও জেলেনস্কির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সবকিছুই ইতি ঘটতে পারে। এর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধে বেশির ভাগ  সমর্থন চলে যাওয়ায় জেলেনস্কির প্রতি সমর্থনটা ফিকে হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে, জেলেনস্কি নিজেও সেটা বুঝতে পারছেন। জেলেনস্কি ভালো করেই বুঝতে পারেন যে তিনি এতটা ক্ষমতাহীন যে ইউক্রেনকে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠা কিংবা শেষের পাতার সংবাদ হয়ে ওঠার বিষয়টি ঘুরিয়ে দিতে পারবেন না। ইউক্রেনের নিয়তি হচ্ছে, তাদের প্রতি বিশ্বের যে মনোযোগ ছিল, এখন তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে এই দুর্ভাগ্যজনক নিয়তি দেখতে পাচ্ছি। যে কাপুরুষ শক্তি ফিলিস্তিনিদের পরিত্যাগ করেছে, সেই একই শক্তি ইউক্রেনকে পরিত্যাগ করবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সামনে আরও বড় হাঙ্গামা অপেক্ষা করছে।



লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।

ডেল্টা টাইমস/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর









  সর্বশেষ সংবাদ  

  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com