
বিদেশ ফেরত যাত্রীর পাসপোর্ট আটকে রেখে চাঁদা দাবির ঘটনায় ঢাকা কাস্টম হাউজের সিপাই আসাদুল্লাহ্ হাবিবের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দক্ষিণখান থানায় এ মামলা করেন দুবাইফেরত যাত্রী সজিব আহমেদ। পরে আসাদুল্লাহ হাবিবকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দক্ষিণখান থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে দক্ষিণখান এলাকায় যাত্রীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা হয় তাকে।
এর আগে ২৫ ডিসেম্বর দুবাই থেকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে (বিএস৩৪৪) ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন সজিব আহমেদ। তিনি পাঁচটি মোবাইলফোন নিয়ে আসেন। ফোনগুলোর জন্য বিমানবন্দরের ডিউটিরত কাস্টমস কর্মকর্তারা শুল্ক প্রদানের জন্য বলেন। সজিব ৭৯ হাজার ১৫২ টাকা শুল্ক প্রদান করেন।
পরে ভুলবশত সজিব আহমেদ তার পাসপোর্টটি কাস্টমস এলাকায় ফেলে চলে যান। বাসায় যাওয়ার পর তার মোবাইলে ভারতীয় একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন কাস্টমসের সিপাই আসাদুল্লাহ হাবিব (৩০)। পাসপোর্টটি ফেরত নেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। টাকা নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করে আর্মড পুলিশ সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ খান থানায় মামলা করেছেন সজিব আহমেদ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সজিব আহমেদের মোবাইলে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে জানানো হয়, আপনার পাসপোর্টটি আমার কাছে আছে। কীভাবে পাসপোর্টটি পেয়েছে সজিব জানতে চাইলে কল করা ব্যক্তি জানান, তিনি এয়ারপোর্টে থাকেন, সেখানেই পাসপোর্টটি পেয়েছেন। এরপর সজিব আহমেদ ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। পাসপোর্ট ফেরত দিতে এক লাখ টাকা দাবি করে ওই ব্যক্তি। টাকা না দিলে পাসপোর্টটি নষ্ট করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
আতঙ্কে সজিব এক লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরে সেই ব্যক্তি সজিবকে টাকা নিয়ে দক্ষিণখান থানাধীন আশিয়ান সিটির পয়সা বাজারে যেতে বলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় সজিব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে লিখিত অভিযোগ দেন। পরবর্তীতে ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে সজিবকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। দক্ষিণখান থানা এলাকার আশিয়ান সিটি পয়সা বাজার এলাকায় অবস্থান নেয় আর্মড পুলিশ সদস্যরা। তখন সেই ব্যক্তি সজিবকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।
পরে এক লাখ টাকা নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ সদস্যরা। পরবর্তী সময়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি ঢাকা কাস্টম হাউজের সিপাহি আসাদুল্লাহ হাবিব। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজ করেন।