অর্থাৎ ‘আমি সৃষ্টি করেছি জিন ও মানুষকে এ জন্য যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে।’ (সুরা আয-যারিয়াত: ৫৬)
অনুরূপ মুসলিম হিসেবে কেউ যদি ইসলামি সংস্কৃতি পরিহার করে বিজাতীয় সংস্কৃতির লালন ও সমাজে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন—
অর্থাৎ ‘(হে নবী) আপনি বলুন: নিশ্চয়ই আমার রব্ব হারাম তথা নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপ কাজ, অন্যায় ও অসঙ্গত বিদ্রোহ ও বিরোধিতা এবং আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করা যার পক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।’ (সুরা আরাফ: ৩৩)
.
তেমনি বর্তমান বিশ্বে থার্টিফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর রাতে ইংরেজি নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী যে উৎসব পালন করা হয়, তা কুরআন ও হাদিসের আলোকে সমর্থিত নয়। কেননা উৎসবটি বহু বছর ধরে উদযাপিত বিধর্মীদের সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের আলোকে সমর্থিত নয় এমন উৎসব পালন ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংস্কৃতি লালন কখনোই মুসলিম উম্মাহর জন্য বৈধ নয়।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জামশিদ খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালে নববর্ষ প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে ব্যাবিলনের সম্রাট জুলিয়াস সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষ বিভিন্ন তারিখে উদযাপিত হতো। পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর পহেলা জানুয়ারি নববর্ষ উদযাপনের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। যার ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বব্যাপী ইংরেজি নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হয়।
তবে অপ্রিয় হলেও সত্য, বর্তমানে উৎসবটি বিধর্মীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও বিভিন্নভাবে উদযাপন করছেন। বিশেষভাবে মুসলিম যুবসমাজের মাঝে এর প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়াও এ রাতে মহল্লায় মহল্লায় কিংবা বিভিন্ন শহরের অলি-গলিতে কতিপয় মুসলিম নামধারী যুবসমাজ গান-বাজনা, অশ্লীল নৃত্য, আতশবাজি ফোটানো, ফানুস উড়ানো, ডিজে পার্টি ও কনসার্ট প্রভৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হচ্ছে। এমনকি এ উৎসব পালনের নামে সমাজের অসংখ্য ছেলে ও মেয়ের মাঝে অবাধ চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়, যার মাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের দ্বার উন্মোচিত হয়।
অর্থাৎ ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৩২)
রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবনী, সাহাবিদের জীবনী, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িনদের জীবনী, চার ইমামের জীবনী, বিখ্যাত মুসলিম মনীষীদের জীবনী এবং বিভিন্ন ইসলামি খেলাফতের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁরা কখনোই বিধর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য এমন কোনো উৎসব পালন করেননি এবং থার্টিফার্স্ট নাইট নামক উৎসবটিও সমর্থন করেননি। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন—
من تشبه بقوم فهو منهم
অর্থাৎ ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩১)
আলোচ্য হাদিস বিশ্লেষণে সহজেই বোঝা যায়, মুসলিম উম্মাহর জন্য বিধর্মীদের উৎসবটি পালন করা সম্পূর্ণ হারাম তথা নিষিদ্ধ। যদি কেউ পালন করে, তাহলে সে তাদের তথা বিধর্মীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই আমাদের উচিত, বিধর্মীদের এ উৎসব পরিহার করা এবং এটি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা।
পাশাপাশি নিজের সন্তান, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে এ উৎসব পালন সম্পর্কে ইসলামের অভিমত অবহিত করা এবং সতর্ক করা। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন—
অর্থাৎ ‘হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা তাহরীম: ৬)
অতএব আমাদের উচিত, ইসলাম সমর্থিত নয় এমন উৎসব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিহার করা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠন করা। তাহলে দুনিয়াবি জীবনে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত ও কল্যাণ লাভ সম্ভব হবে; তেমনি আখেরাতেও আল্লাহর মাগফেরাত সম্ভবপর হবে।