বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কালের সাক্ষী কুমিল্লার চান্দিনার তিন গুম্বজ মসজিদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেল্টাটাইমস্, আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

/ ফিচার

মো.ওসমান গনি:

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ৯নং মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সেই তিন গুম্বুজ ওয়ালা জামে মসজিদ।পাখি ডাকা, ছায়া ঢাকা,অনাবীল সুখ-শান্তির সুশীতল পরিবেশে অবস্থিত মসজিদটি।যে মসজিদটির ভিতর ও বাহিরে রয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য বিভিন্ন কারুকাজ করা।চিনা মাটির প্লেট ভাঙ্গা দ্বারা বিভিন্ন ডিজাইনে মসজিদ টি নির্মান করা হয়।যে কেউ একবার দেখলে পরে মন ভরে যায় সৌন্দর্যের কারনে।১৩৩১ বাংলা সনে মসজিদ টি নির্মান করা হয়।মেহার গ্রামের তৎকালীন প্রভাবশালী দানবীর ব্যক্তি জনাব হাজী নজর মামুদ এ মসজিদটি নির্মান করেন।মসজিদটির নাম দেন-মেহার নজর মামুদ হাজীবাড়ি জামে মসজিদ।সে সময়ে তিনি পায়ে হেঁটে মক্বাশরীফ গিয়ে হজ্ব করেন।তৎসময়ে এলাকায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোন মসজিদ ছিল না।তাই তিনি এলাকার মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য নিজ উদ্দোগ্যে ছয় শতক জায়গার মধ্যে মসজিদটি নির্মান করেন।মসজিদটির সামনে রেখেছেন মুসুল্লীদের বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা করার জন্য বসার স্থান।মসজিদটির দক্ষিন পাশে মসজিদের মুসুল্লীদের অযুও গোসল করার জন্য তৎসময়ে তিনি ১২০শতক জায়গায় একটি পুকুর খনন করে যান।যাতে রয়েছে পাকাসান বাঁধা ঘাট।তিনি মসজিদটি নির্মান করে ভবিষ্যতে মসজিদ পরিচালনা, প্রতি রমজান মাসের কদরের রাতে মসজিদের মুসুল্লীদের খাবার ও মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জ্বিনের খরচ সহ অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করার জন্য মসজিদের নামে ২৬৪ শতক জায়গা ওয়াকপ করে দিয়ে যান।হাজী নজর মামুদের ২ছেলে ছিল,আপ্তরদ্দী ও মিছির আলী।হাজী সাহেবের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে মসজিদের সবধরনের দেখাশোনা করতেন।ছেলেদের মৃত্যুর পর তার ছেলের ঘরের নাতীরা মসজিদটি এখন দেখাশোনা করছেন।বর্তমান সময়ে এসে মসজিদের মুসুল্লীদের স্থানসংকুলান না হওয়ায় তার নাতীরা মসজিদের সামনের খালী জায়গাটি মসজিদের সাথে সংযুক্ত করে সম্প্রসারন করে মুসুল্লীদের নামাজের জায়গা তৈরি করেন।তার পাঁচ নাতীর মধ্যে ৩জন মারা গেছেন।এখন দুই নাতী ও নাতীর ঘরের পতিরা মসজিদটি নিয়মিত দেখাশোনা করছেন।