'প্রিন্টিং মেশিনের' আড়ালে জাল স্ট্যাম্প, ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম (ভিজিট : ০)

ফাইল ছবি
প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা একটি কনটেইনার তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পেয়েছেন কাস্টমসের গোয়েন্দারা।
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের চায়না মার্ট নামের প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা এ চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা শনাক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদনের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং প্রসাধনী আমদানিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে এ অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়। চালানটি গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি ঘোষণায় পণ্যের বিবরণ দেওয়া হয়েছিল ‘প্রিন্টিং মেশিন’। সন্দেহজনক হওয়ায় সিআইসি চালানটি বিশেষ নজরদারিতে রাখে।
গত ৫ নভেম্বর সিআইসি ও এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে চালানটি বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। এতে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন পাওয়া যায়নি। এর পরিবর্তে কনটেইনারে মেলে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের একটি প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা, যার বিপরীতে সরকার প্রতি প্যাকেট থেকে ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা রাজস্ব পায়।
এনবিআর জানিয়েছে, এসব জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত। আর চালানে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি নিরূপণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ চালানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল স্ট্যাম্পে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি হলে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী তামাকজাত পণ্য উৎপাদকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। এতে রাজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি ও অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।