সব বোর্ডেই বাজিমাত ছাত্রীদের, পাসের হারে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছাত্ররা

শিক্ষা

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংখ্যা, পাস এবং সাফল্যের হার-সব সূচকেই ছাত্রদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে

2026-10-31T11:46:48+06:00
2026-10-31T11:46:48+06:00
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা
সব বোর্ডেই বাজিমাত ছাত্রীদের, পাসের হারে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছাত্ররা
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম   (ভিজিট : ৮)

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংখ্যা, পাস এবং সাফল্যের হার-সব সূচকেই ছাত্রদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। 

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত সব কটি পরীক্ষায় পাসের হারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে মেয়েরা। এমনকি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় সাধারণ বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সাফল্যের হার লক্ষণীয় ব্যবধানে বেশি।

অংশগ্রহণ-ফলাফলে জয়জয়কার ছাত্রীদের

সারাদেশে সর্বমোট ১২ লাখ ৮০ হাজার ৪৪৯ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৮ জন এবং ছাত্র ছিল ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন। 

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, মোট ৬ লাখ ৪৬,৬৮৫ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬,৫২৮ জন, যেখানে ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ৯০,১৫৭ জন। ফলে সামগ্রিকভাবে ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.৩১ শতাংশে, আর ছাত্রদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪৭.৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ৮.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ সব বোর্ড মিলিয়ে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে।

অন্যদিকে ৯টি সাধারণ বোর্ডে মোট পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশ, যেখানে অংশ নেওয়া ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ লাখ ৪১,২৪৯ জন।

সাধারণ ৯ বোর্ডের প্রতিটিতেই এগিয়ে মেয়েরা


সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটিতেই ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে বরিশাল বোর্ডে; সেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫.৩৮ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.৯৭ শতাংশে, যা ছাত্রদের তুলনায় ১৭.৫৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। 

বরিশাল বোর্ডে ২৬ হাজার ৭৫৫ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৫ জন এবং ৩১ হাজার ১৫৭ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১৬ হাজার ৫০৫ জন, ফলে এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৮৪ শতাংশ। 

একই চিত্র দেখা গেছে রাজশাহী বোর্ডেও, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৩৭.৭১ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩.০৩ শতাংশ। রাজশাহীতে ৭১ হাজার ৪২৮ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬ হাজার ৯৮৩ জন এবং ৬৫ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৯১ জন, যার ফলে বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫.০৬ শতাংশ। 

রাজধানী ঢাকা বোর্ডেও ছাত্রীদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৬২.৫২ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬০.০৩ শতাংশ, যেখানে সার্বিক পাসের হার ৬১.৩৮ শতাংশ। ঢাকায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮১,৮৩৯ জন এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২ হাজার ৯১ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ছাত্রদের ৪৮.৮৩ শতাংশ পাসের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৪.৫৫ শতাংশ। এ বোর্ডে ৪১ হাজার ৬৬৪ জন ছাত্রের মধ্যে ২০ হাজার ৩৪৪ জন এবং ৫৪ হাজার ৬৭১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৯ হাজার ৮২২ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.০৭ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বোর্ডে ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে ১৫ হাজার ৬৪৭ জন পাস করায় ছাত্রদের সাফল্যের হার ৪৭.৩৬ শতাংশ, বিপরীতে ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে ২০ হাজার ৭০৭ জন উত্তীর্ণ হয়ে ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.০২ শতাংশে এবং এ বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ। 

সিলেট বোর্ডে ছাত্রদের ৪৮.৭২ শতাংশ পাসের বিপরীতে ছাত্রীরা অর্জন করেছে ৫২.৩৮ শতাংশ পাসের হার। সেখানে ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্রের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৬ জন এবং ৪২ হাজার ৯৫৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ২২ হাজার ৫০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০.৯০ শতাংশ। 

দিনাজপুর বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪১.৩১ শতাংশ (অংশগ্রহণকারী ৫৩ হাজার ৫০৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ২২ হাজার ১০৬ জন), যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০.২৬ শতাংশ (অংশগ্রহণকারী ৫৮ হাজার ২৭৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ ২৯ হাজার ২৯২ জন) এবং এ বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৪৫.৯৮ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৫১.২৬ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৪৩.১৭ শতাংশ। সেখানে ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রের মধ্যে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন এবং ৫৫ হাজার ৪৬৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৮ হাজার ৪১৫ জন উত্তীর্ণ হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭.৯৮ শতাংশ। 

যশোর বোর্ডেও ছাত্রীদের পাসের হার ৫০.৩০ শতাংশ, যা ছাত্রদের ৩৯.২৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। যশোরে ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১ হাজার ৫০২ জন এবং ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন, যার ফলে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯২ শতাংশ।

মাদ্রাসা-কারিগরিতেও চমকপ্রদ সাফল্য

সাধারণ ধারার মতো বিশেষায়িত দুই বোর্ডেও পাসের হারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেয়েরা। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আলিম পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.৯০ শতাংশে, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৮.১০ শতাংশ। এ বোর্ডে অংশ নেওয়া ৫০ হাজার ৭৪ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৯ হাজার ২৬৯ জন এবং ৩৮ হাজার ৯৪৭ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৫ হাজার ২৭৮ জন; ফলে বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১.০৭ শতাংশ।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে সাফল্যের ব্যবধান সবচেয়ে চমকপ্রদ। এ বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৪.৬৮ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১.৬৪ শতাংশে, যা ছাত্রদের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। কারিগরিতে ৭৪ হাজার ৮৪ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৯ জন এবং ২৮ হাজার ৮৬৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ১৭ হাজার ৭৯৬ জন। এ বোর্ডের সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৯.৪৩ শতাংশ।

অনুপস্থিতির হিসাব

২০২৬ সালের এ পরীক্ষায় মোট ৩৯ হাজার ৬৫১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ২৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী। বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকায় অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৭৪৭ জন (ছাত্র ১,৬৯৯ ও ছাত্রী ২,০৪৮), রাজশাহীতে ৪ হাজার ৫৮০ জন (ছাত্র ২,৪১৩ ও ছাত্রী ২,১৬৭), কুমিল্লায় ২,৯০১ জন (ছাত্র ১,০৩৯ ও ছাত্রী ১,৮৬২), যশোরে ৪,৭১৯ জন (ছাত্র ২,৩৯২ ও ছাত্রী ২,৩২৭), চট্টগ্রামে ৩,৫৪৪ জন (ছাত্র ১,৯৪০ ও ছাত্রী ১,৬০৪), বরিশালে ২,৭৩০ জন (ছাত্র ১,৪১০ ও ছাত্রী ১,৩২০), সিলেটে ১,০৬২ জন (ছাত্র ৩৮৪ ও ছাত্রী ৬৭৮), দিনাজপুরে ৩,৭০৪ জন (ছাত্র ১,৯৫৫ ও ছাত্রী ১,৭৪৯) এবং ময়মনসিংহে ২,৭৪৭ জন (ছাত্র ১,৫২১ ও ছাত্রী ১,২২৬)। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে মোট অনুপস্থিত ছিল ৪,১৫০ জন (ছাত্র ১,৯৮১ ও ছাত্রী ২,১৬৯) এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৫,৭২৪ জন পরীক্ষার্থী (ছাত্র ৪,০৪৭ ও ছাত্রী ১,৬৭৭)। সার্বিকভাবে সারাদেশে ২০ হাজার ৪৮৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ১৬৮ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে বন্যার কারণে পেছানো হয় চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হয়।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ ও ছাত্রী রয়েছেন ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হয়।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ