প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম (ভিজিট : ০)

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের তিনটি পরীক্ষাগার স্থাপন করতে যাচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আইন ও বিধিমালা সুবিন্যস্ত করা, খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং জেলা পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো। ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি। এ সময় প্রতিনিধিদলের দলনেতা কোয়ামা আতসুশি খাদ্য নিরাপত্তা প্রশাসন শক্তিশালী করতে জাইকার সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।
সাক্ষাৎকালে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, খাদ্যবাহিত রোগ মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রশাসনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এ খাতে কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন বন্ধে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনসহ (বিএসটিআই) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যের মান পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন উপদেষ্টা। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুসংহত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সুবিন্যস্ত করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সব খাদ্য ব্যবসায়ীর জন্য একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কার্যকর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বীকৃত পরীক্ষাগার এবং দেশব্যাপী খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরিদর্শন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।
খাদ্য ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর পদ্ধতিতে তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন জাইকার প্রধান প্রতিনিধি। পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা দেওয়া এবং নিয়মিত খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করার সুপারিশ করেন তিনি।
এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাকাহাশি জুনকো।
সাক্ষাৎকালে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।