বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অর্থ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না। সামনের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আলজেরিয়ার সঙ্গে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর আওতায় সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় দেশটি থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে এখন সোর্সের সমস্যা হচ্ছে। অনেক দেশই টাকা থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি দিতে পারছে না এবং সামনের পরিস্থিতিটা ভোলাটাইল হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়নোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক থেকে দুই ডলার কমেছে বলে অনেকে উল্লেখ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বস্তির বলে মনে করার সুযোগ নেই। বরং অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
আলজেরিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগজ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এতে স্বাক্ষর করেছেন। এর আওতায় জি-টু-জি ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির বিষয়ে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস তৈরিতে সরকারের মনোযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সরকারের উদ্যোগের আরেকটি প্রমাণ হলো বিকল্প উৎস তৈরির এই প্রচেষ্টা।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও গুরুত্ব
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানান ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, নতুন কূপ খননের কাজও চলছে। একই সঙ্গে নতুন গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের আশাজ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। উপদেষ্টা জানান, আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার একটি ভালো সমাধান হতে পারে। যারা গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করবেন, তারা বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসাবাড়িতে সৌরপ্যানেল স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের আগেই দেশে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বাসার ছাদে নতুন করে সৌরপ্যানেল বসানো হচ্ছে। এসব প্যানেলের দক্ষতা বাড়ছে এবং দাম তুলনামূলক কমছে। যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে পারলে দীর্ঘ মেয়াদে এটি অনেক বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে নীতিসহায়তা দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে। ভবিষ্যতে এ খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই