প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ৬:০৬ পিএম (ভিজিট : ২৮)

কাতারের রাজধানী দোহায় রোববার (২৫ অক্টোবর) শুরু হয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম ২০২৬। তিন দিনের এই আয়োজন চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। সরকার, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা এতে আলোচনা করছেন, কীভাবে বিনিয়োগ আরও বেশি দেশের অর্থনীতিতে পৌঁছানো যায় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাস্তব সুফল নিশ্চিত করা যায়।
ফোরামের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন, যেসব অর্থনীতি ও খাতে মূলধনের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে কীভাবে তা পৌঁছানো যায় এবং কীভাবে তা উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বড় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী দেশ কাতারের আয়োজনে এটি ফোরামের নবম আসর। মূলধন ক্রমেই কয়েকটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, আর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খল নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এমন সময়েই এই আয়োজন।
সম্মেলনের উদ্বোধনের দিনেই জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস মনিটর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কৌশলগত খাতের বড় লেনদেনের কারণে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মূল্য বেড়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন কমেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও খাদ্যব্যবস্থার মতো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।
আঙ্কটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের মোট সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের ৮০ শতাংশের বেশি গেছে মাত্র ২০টি অর্থনীতিতে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির দামের চাপ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত বিনিয়োগের সম্ভাবনার ওপর চাপ ফেলছে। বিনিয়োগ ক্রমেই বাছাই করা খাতে সীমিত হচ্ছে, আর সরকারগুলো কৌশলগত শিল্প ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই ব্যবধান কমানোই সম্মেলনের লক্ষ্য।
সম্মেলনে ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) নিয়ে তিনটি আঞ্চলিক বিনিয়োগ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রতিবেদনে বিনিয়োগের প্রবণতা, সুযোগ ও নীতিগত অগ্রগতির বিশ্লেষণ থাকবে।
‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগ’ প্রতিপাদ্যের এই আয়োজনে পাঁচ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ২০০–র বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক। কাতার, লেসোথো, লিবিয়া ও মাদাগাস্কারের চার প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এ ছাড়া থাকবেন চারজন উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রায় ৫০ জন মন্ত্রী।
তিন দিনে ৮০টির বেশি অধিবেশনে ৪০০–র বেশি বক্তা কথা বলবেন। আলোচনার বিষয়ের মধ্যে আছে বিনিয়োগ নীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উদ্যোক্তাবৃত্তি, টেকসই অর্থায়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, পর্যটন ও সংস্কৃতি, বিনিয়োগ উন্নয়ন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবৃত্তি নিয়ে দুটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে নীতিগত অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। বিনিয়োগ উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাবৃত্তিতে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যাওয়ার্ডস’ ও ‘উইমেন ইন বিজনেস অ্যাওয়ার্ডস’ দেওয়া হবে।
এবারের আসরে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য আলাদা ধারা রাখা হয়েছে। এআই অবকাঠামো কৌশলগত বিনিয়োগের বড় গন্তব্য হয়ে উঠছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো কীভাবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও পিছিয়ে পড়া এড়াতে পারে, অংশগ্রহণকারীরা তা খতিয়ে দেখবেন।
এ ছাড়া ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ নিয়েও আলোচনা হবে। তাতে দেখা হবে, তাৎক্ষণিক মানবিক ত্রাণের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ কীভাবে ভঙ্গুর ও সংঘাতপীড়িত অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। মহাকাশ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে একটি নতুন অধিবেশনে আলোচনা হবে, দ্রুত বিস্তৃত এই শিল্পে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে অংশ নিতে পারে। আর শিল্প ও সভ্যতা নিয়ে আলোচনায় সংস্কৃতি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেখা হবে।
আঙ্কটাড ২০০৮ সাল থেকে এই ফোরামের আয়োজন করছে। এখানে সরকার, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা একত্র হয়ে বিনিয়োগ নীতি গড়েন, অংশীদারি তৈরি করেন এবং কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আঙ্কটাড জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান সংস্থা। সংস্থাটি ১৯৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ ও কারিগরি সহায়তা দেয় এবং আন্তঃসরকার সংলাপের মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।