সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ

2026-10-12T16:32:07+06:00
2026-10-12T16:32:07+06:00
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে। কৃষক যাতে সহজে ও বিনা হয়রানিতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ জন্য প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। 

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত জেলার খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কৃষকদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের সঙ্গে কাজ করে সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে যেসব সমস্যা জমে উঠেছে, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
তবে সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থে কোন সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রত্যেককে সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার বিষয়ে তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের মানসম্মত মজুদ গড়ে তোলা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ থাকতে হবে। 

বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং আমদানির মাধ্যমে আসা চালসহ সব খাদ্যশস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান,খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ জামাল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। মতবিনিময়সভা শেষে  খাদ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ