প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ এএম (ভিজিট : ৯)

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ সংগ্রহ পরিকল্পনায় মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এগুলো যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের উৎসব হলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমায়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ আঞ্চলিক ও মধ্যমপাল্লার রুটে ব্যবহার করা হবে।
এসব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ধীরে ধীরে বোয়িং ও এয়ারবাস—দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে মিশ্র বহরের দিকে এগিয়ে যাবে বিমান বাংলাদেশ। আগামী দশকে উড়োজাহাজের সক্ষমতা ও রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
পরবর্তীতে এ কর্মসূচিতে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ—পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮—যুক্ত করা হয়। ফলে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।
এর সঙ্গে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় বিমানের দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ সংগ্রহ পরিকল্পনায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
পরিকল্পিত এ বহর সম্প্রসারণের ফলে দীর্ঘপাল্লা, আঞ্চলিক এবং স্বল্প ও মধ্যমপাল্লার বিভিন্ন রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিমানের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির আওতায় নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা পূরণে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই