প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম (ভিজিট : ১০)

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও।
যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ফের বেড়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। পরে, কিছুটা কমে বাংলাদেশ সময় দুপুরের আগে নভেম্বরের ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৩৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবে তেহরান।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধও শেষ করতে হবে।
তবে, গত শনিবার ট্রাম্প জানান, ইরানের এ প্রস্তাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর এই বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১৩২টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ১১৬।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। উপসাগরীয় এলাকায় কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক কমলেও হংকং ও অস্ট্রেলিয়ার সূচক বেড়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ