প্রসিকিউটর মিজানুল •
জিয়াউল আহসানের শতাধিক মামলার বিচার অক্টোবরে শেষ হতে পারে
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১০)

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মামলার বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা পর্ব প্রায় শেষের দিকে। নির্ধারিত কার্যক্রম যথাসময়ে এগোলে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই মামলাটির বিচারিক কাজ শেষ করা সম্ভব হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এ মামলা চলছে। এরই মধ্যে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা এগিয়ে চলছে।
মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। পরে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, গাজীপুরে সজলসহ তিনজনকে হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা এবং সুন্দরবনে বনদস্যু দমনের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সরাসরি সম্পৃক্ততা, নির্দেশনা ও অনুমোদনের অভিযোগ এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যও এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যে তিনি ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা ও সুন্দরবনে কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন।
এর আগে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া সাক্ষ্য দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও এডিজি (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুম ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচার শেষে ট্রাইব্যুনালের রায়েই নির্ধারিত হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ