দেশে বীজের বার্ষিক চাহিদা ১৩ লাখ, পরীক্ষিত ৩০ শতাংশ

জাতীয়

বাংলাদেশে কৃষি খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন বীজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ বীজ

2026-09-22T13:04:53+06:00
2026-09-22T13:04:53+06:00
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে বীজের বার্ষিক চাহিদা ১৩ লাখ, পরীক্ষিত ৩০ শতাংশ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৩)
রাজধানীতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রে এক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম।

রাজধানীতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রে এক কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম।

বাংলাদেশে কৃষি খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন বীজের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ বীজ ফরমাল বা পরীক্ষিত। বাকি ৪০ শতাংশ সেমি-ফরমাল এবং ৩০ শতাংশ কৃষকের নিজস্ব সংরক্ষিত বীজ। কৃষির উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে পরীক্ষিত ও মানসম্মত বীজের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট বিএআরসি ক্যাম্পাসের সার্ক কৃষি কেন্দ্রে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যরা।

বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে হলে বাংলাদেশকে ফরমাল সিড ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। যেসব বীজ পরীক্ষিত ও মান নিয়ন্ত্রিত, সেগুলোর ব্যবহার বাড়াতে হবে। বীজের মান নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ও ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিতে ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের বীজ খাতে বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে বীজের অঙ্কুরোদ্‌গম ক্ষমতা, বিশুদ্ধতা, স্বাস্থ্য, লেবেলিং এবং সংরক্ষণজনিত ঝুঁকি অন্যতম। সঠিক মানের বীজ সঠিক সময়ে কৃষকের কাছে পৌঁছানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কম হারে বীজ প্রতিস্থাপনের কারণে জাতের অবক্ষয় ও রোগের বিস্তার ঘটতে পারে।

বীজ সংরক্ষণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পোকামাকড় এবং অপর্যাপ্ত শুকানোর সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে মৌসুম শুরুর আগেই বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

আমদানিনির্ভর বীজের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা, জাহাজীকরণ, ফাইটোস্যানিটারি বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার কারণে বীজ আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।’

বীজ খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, লবণাক্ততা, খরা, বন্যা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে নতুন ও বর্ধিত পোকামাকড়ের আক্রমণও বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু-বান্ধব ও সহনশীল বীজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা, জলমগ্নতা ও তীব্র তাপমাত্রা সহনশীল জাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ