প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম (ভিজিট : ৬)

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল : ফাইল ছবি
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। আর এই খবর পেয়েই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়ার কড়া হুশিয়ারি দিয়েছে ভারত।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বি-সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, আমরাও এ বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছি, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ভারত তার নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জানিয়েছে, দেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রেখে চুক্তিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দলটির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা বিগত সরকারের আমলে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছি এবং আপনারা খুব শিগগিরই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।
২৪’এর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি কেন্দ্র করেই মূলত এই পর্যালোচনা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, আঞ্চলিক সংযোগ ও যৌথ অন্যান্য কৌশলগত প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তিগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঢাকা এখনই সব চুক্তি একযোগে বাতিল করার কোনো ঘোষণা দেয়নি।
এমন এক সময়ে এই ইস্যুটি সামনে এলো যখন বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নদী পানিবণ্টনের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভারত অতীতে ঋণের মাধ্যমে প্রায় সাত বিলিয়ন বা ৭০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে এসব দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের বন্দরগুলো ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধাও তৈরি হয়েছিল।
দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান বকেয়া সমস্যা হিসেবে থেকে গেছে। বিশেষ করে, ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে, আর বহু কাঙ্ক্ষিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিও এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রণধীর জয়সোয়াল জানান, অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ও আলোচনার জন্য দুই দেশের বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় পানি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় আলোচনার জন্য আমাদের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) মেকানিজম রয়েছে। পানি সংক্রান্ত টেকনিক্যাল বা কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথভাবে ৫৪টি অভিন্ন নদী প্রবাহিত রয়েছে উল্লেখ করে জয়সোয়াল আরও যোগ করেন, সমস্ত পানিসম্পদ সংক্রান্ত সমস্যাগুলো যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা হয়ে থাকে।