বাগেরহাটে একই পরিবারের ৩ খুনের রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৬)

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাদের কাছ থেকে নিহতদের একজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
গ্রেপ্তাররা হলেন কচুয়ার চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে মো. আরিফ হাওলাদার বাবু।
পুলিশ সুপার বলেন, পরকীয়া সম্পর্ক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোর ৫টার মধ্যে কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
তিনি বলেন, ৪ আগস্ট সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
পরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। ১৩ আগস্ট চান্দেরকোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি।
এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আসাদুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসাদুলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত আহাদের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও চার্জার তার শয়নকক্ষের খাটে বালিশের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে আসাদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১১টার দিকে একই গ্রামের মো. আরিফ হাওলাদার বাবুকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি দুই পরিবারে জানাজানি হলে আহাদের মা নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বিরোধ হয়। একই সঙ্গে জাহিদুলের নিজের সংসারেও বিরোধ চলছিল।
এসব বিরোধের জেরে জাহিদুল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে অন্য দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তির সহযোগিতায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কচুয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি