প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম (ভিজিট : ০)

দেশের বিভিন্ন আবাসিক মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের বলাৎকার ও যৌন নিপীড়নের একের পর এক ঘটনা সামনে আসার প্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে দেশের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ বিবৃতি ও সোচ্চার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সুপরিচিত আলেম ও ইসলামি আলোচক আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
তিনি বলেন, গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে ঘটনা ধামাচাপ দেওয়া কিংবা অভ্যন্তরীণ কিছু শাস্তি দিয়ে ভুক্তভোগীকে চুপ করিয়ে রাখার মধ্যে কোনো সমাধান নেই। বরং এতে সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এবং পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস সংকটের মুখে পড়ছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন:
“আমাদের সচেতন আলেম সমাজ, যারা আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের দায়িত্বশীল পর্যায়ের আলেম, আপনারা যদি মনে করেন যে গোপনীয় বিষয় গোপন রেখেই এর সমাধান করে দেবেন, তবে আপনারা ভুলের মধ্যে আছেন। বরং আমরা বলব, জাতীয় পর্যায়ে ওলামায়ে কেরাম আপনারা একসঙ্গে বসুন এবং সঠিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করুন। কিছু মানুষের অপকর্ম সামগ্রিকভাবে পুরো ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ইতোমধ্যেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রতিটি মাদ্রাসায় একটি করে স্বাধীন অভিযোগ কেন্দ্র থাকতে হবে। আপনি শুধু বলে দিলেন যে হুজুরের কথার ওপর আর কোনো কথা নেই, বড়দের কথা শুনে চলতে হবে-এটি আদবের কথা ঠিকই, কিন্তু কোনো অন্যায় হলে তা জানানোর মতো তো একটি জায়গা থাকতে হবে।
ঘটনা চেপে রাখার বা মুখ বন্ধ করিয়ে দেওয়ার মধ্যে আপনারা কোনো সমাধান পাবেন না। একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। চেপে রেখে আপনি কার মুখ বন্ধ করাবেন? বরং স্বাধীন তদন্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের এই আর্তনাদ শুনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ করে আবাসিক ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুনলে আপনাদের কাছে হয়তো খারাপ লাগবে, কিন্তু এটিই বাস্তবতা। আমাদের বাড়িতে অনেক ভিক্ষুক ভিক্ষা করার জন্য আসে, কোনো ভিক্ষুক কি তার বাড়িতে গিয়ে মাটিতে ঘুমায়? খেয়াল করে দেখবেন, কোনো ভিক্ষুকের বাড়িতে দামি খাট না থাকলেও অন্তত একটা কাঠের চৌকি আছে। সে সেই চৌকিতেই সন্তানকে শোয়ায়, তার সন্তানকেও সে মাটিতে ঘুম পাড়ায় না। বাংলাদেশের সবচেয়ে হতদরিদ্র মানুষও এখন মাটিতে থাকে না, ২০০ টাকা দামের হলেও একটি চৌকি ব্যবহার করে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি