প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম (ভিজিট : ০)

খাসকামরায় ডেকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন ওই বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার বিচার চেয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ডাবলুসহ পুলিশের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী ঢাকা রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী।
পুলিশ সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিচার চান। আইনমন্ত্রী বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে এসআই মোহাম্মদ আলীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারাঙ্গণ ও পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে দেওয়া লিখিত অভিযোগ এবং এসআই মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ের প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এ সময় নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের অফিস সহকারী সাকিব আল হাসানের ব্যাগ তল্লাশি করতে চান পুলিশ সদস্যরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাকিব ব্যাগ তল্লাশিতে বাধা দেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার জন্য রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, সেখানে প্রথমে নিজের পরিচয় না দিলেও পরে সাকিব নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মোবাইল ফোনে বিচারকের সঙ্গে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।
তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব আদালতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে তিনি ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট এসআই মোহাম্মদ আলীকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে তলব করেন ঢাকা রেলওয়ে থানার আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় এসআই মোহাম্মদ আলীকে ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই আদালতে গেলে এসআই মোহাম্মদ আলী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। লিখিত অভিযোগে এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালতের কক্ষে আগে থেকেই একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বসেছিলেন। পরে বিচারকের স্টাফসহ মোট তিনজন সেখানে অবস্থান করেন এবং দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি, যাকে তিনি আদালতের ওমেদার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, পেছন থেকে তাকে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি সেখানে থাকা একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
এসআই মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, ঘটনার সময় বিচারক তাকে ‘তুই-তামারি’ করে ধমক দেন। নিজের কোনো আচরণে বিচারক ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে ক্ষমা চাওয়ার কথাও তিনি বলেন। তবে বিচারক বিষয়টি আমলে না নিয়ে তাঁর পিয়ন সাকিব আল হাসানের বক্তব্যের ভিত্তিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর ও অপমান করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে আদালতের পিয়ন সাকিব আল হাসান পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, কমলাপুরে ট্রেন থেকে নামার সময় একজন কনস্টেবলসহ কয়েকজন তার কাঁধে থাকা ব্যাগে হাত দেন। তিনি তাদের সামনে ব্যাগ তল্লাশির অনুরোধ করেন এবং পরে নিজেকে আদালতের স্টাফ হিসেবে পরিচয় দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাকিবের অভিযোগ, বিষয়টি জানাতে রেলওয়ে থানায় গেলে এসআই মোহাম্মদ আলী তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং বিচারকের সঙ্গে ফোনে খারাপ ব্যবহার করেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই