প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ এএম (ভিজিট : ২)

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি এবং প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। এ বিষয়ে ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীন চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (ডিপ্রকৌস) অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের বিরোধী নই। তবে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৬, নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিল-২০২৬ এবং প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
ডিপ্রকৌস সদস্য সচিব বলেন, সংগঠনের উত্থাপিত নীতিগত, আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোর সন্তোষজনক নিষ্পত্তি ছাড়াই জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিলসহ প্রস্তাবিত চাকরি প্রবিধানমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি সহকারী প্রকৌশলী (এএই) ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) পদের মোট সংখ্যার বিপরীতে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির নীতি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদকে পুনরায় সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করে অভিন্ন জ্যেষ্ঠতা তালিকা চালু করতে হবে। পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসডিই পদকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬ পুনর্বিবেচনা করে সার্ভিস রুল-১৯৮২-এর ক্লজ-২৪ পুনর্বহাল করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিলের আইনগত ভিত্তি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে হবে।
মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালার বিরোধী নই, আমরা একটি বৈষম্যহীন, আইনসম্মত, ন্যায়সংগত ও টেকসই পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা চাই। দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে পর্যায়ক্রমে শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনি প্রতিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (ডিপ্রকৌস) যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এখলাস উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. জমীর উদ্দিন প্রমুখ।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই