প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো তফশিল ঘোষণা করেনি। তবে বছরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। সেপ্টেম্বরে তফশিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা জনসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কোথাও আবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারও লাগানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রায় সব ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে তৃণমূলে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ বিরোধের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিএনপি চায়, প্রতিটি ইউনিয়নে সমঝোতার মাধ্যমে একজনকে সমর্থন দিতে।
এ লক্ষ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করছেন। এসব বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং দলীয় ঐক্য ধরে রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। সেখানে বিএনপির অন্তত নয়জন চেয়ারম্যান পদে আগ্রহী বলে স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মীর মোশাররফ হোসেন (মানিক), সদস্য সচিব শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজামুদ্দিনসহ যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা রয়েছেন। বিএনপি ঘরানার কয়েকজন প্রবাসীও প্রার্থী হতে আগ্রহী। এরই মধ্যে দুইজন পোস্টারও লাগিয়েছেন।
তবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখনো স্থানীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেয়নি বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মতামত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনা করে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে যাদের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা আছে, বিএনপি তাদের সমর্থন দেবে, এটাই আমাদের ঘোষিত অবস্থান।’
দলীয় নেতাদের মতে, তফশিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা করতে না পারলে নেতা-কর্মীদের বিভক্তির ঝুঁকি বাড়বে। তাই ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে দলের অভ্যন্তরের একাধিক দাবিদারকে এক ছাতার নিচে আনাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেল্টা টাইমস / আরএফ