আমেরিকার গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন আঘাত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা স্থাপনা ও স্পর্শকাতর নজরদারি যন্ত্রপাতির ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তৈরি হয়েছে

2026-08-27T15:05:04+06:00
2026-08-27T15:05:04+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আমেরিকার গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন আঘাত’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম   (ভিজিট : ০)

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা স্থাপনা ও স্পর্শকাতর নজরদারি যন্ত্রপাতির ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তৈরি হয়েছে মারাত্মক ‘নজিরবিহীন ক্ষতি’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চারজন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।


প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় সিআইএসহ অন্যান্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়, রাডার ব্যবস্থা এবং উপাত্ত সংগ্রহের নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের ইতিহাসে এই ঘটনাকে এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিআইএ ও সামরিক বাহিনীর যৌথ ব্যবহৃত বেশ কিছু কৌশলগত কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত মার্কিন প্রশাসন। ভেঙে পড়া পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং বিনষ্ট সরঞ্জাম দ্রুগ গতিতে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেস ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে।


সিআইএ স্টেশন ও রাডার সিস্টেমে সুপরিকল্পিত হামলা

মার্কিন ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রিয়াদের একটি সিআইএ স্টেশন ও পূর্ব ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল রাডার ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধসে পড়েছে।


যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি ও দৃশ্যমান আলামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডার সিস্টেম এবং কাতারের একটি ‘এএন/এফপিএস-১২ ফেজড-অ্যারে’ রাডারসহ বেশ কিছু সর্বাধুনিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন কৌশলগত মার্কিন স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন ব্যাপক ধসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা নিজেদের সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখার মার্কিন সক্ষমতা নিয়ে এখন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে গভীর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট

ইরানের ধারাবাহিক হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ করে ফেলেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ‘থাড’ (THAAD) ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও অন্তত ৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।


উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এর জবাবেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও গোয়েন্দা কেন্দ্রে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বিরতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও বাস্তবে তা থমকে আছে। চুক্তির নানা জটিল শর্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্ত নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক ও ভৌগোলিক বিরোধ এখনো বহাল রয়েছে।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ