
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন : সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কারাগারে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। তবে কারাগারে মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তর কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে কারারক্ষীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্বজন বা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, "শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে তাঁরা মোবাইলে কথা বলছেন না। তবে এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।"
তিনি জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় তিন হাজার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং বর্তমানে কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, "অনেক বন্দিকে আমরা বিশেষ (স্পেশাল) জোনে রেখেছি, যেখানে সিগন্যাল জ্যামার বসানো আছে। ফলে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে গেলেও জ্যামারের কারণে তা ব্যবহার করতে পারছেন না।"
কারাগারে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁদের কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। স্বজন ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, নির্যাতনের কারণেই কারাগারে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, "আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই।"
তিনি জানান, বর্তমানে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত মারা গেছেন আরও ১২২ জন। এ ছাড়া কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭০ জনের সাজার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা এখনো কারাগারেই রয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত দুই বছরে বিদেশি বন্দিদের প্রায় ১৭টি মরদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজি প্রিজন। এর মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, বিধি অনুযায়ী বিদেশি বন্দিদের মরদেহ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে তিনটি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। কোনো পরিবার বা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মরদেহ নিতে না এলে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, ২০২৪ সালে বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট দুই হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন।
তিনি জানান, শুধু নরসিংদী কারাগার ভেঙেই ৮২৬ জন বন্দি পালিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে ১৬৬ জনের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গি বন্দির মধ্যে ছয়জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; বাকি তিনজন এখনো পলাতক।