প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৩)

ছবি: ডেল্টা টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও কঠোর করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশজুড়ে চলমান ব্যাপক অভিযানে গত এক মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে এত বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা এটাই প্রথম।
আইসিইর প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করেছে সংস্থাটি। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল গত জুনে প্রায় ৪৩ হাজার। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশটিতে অবস্থানকারীদের শনাক্ত, আটক এবং বহিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে আইসিই।
অভিবাসনবিরোধী অভিযানের তীব্রতার একটি বড় উদাহরণ দেখা গেছে জর্জিয়ায়। সেখানে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। শুধু স্থলভাগেই নয়, বিমানবন্দরগুলোতেও নজরদারি ও গ্রেপ্তার বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত মাসে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই অভিযান মূলত অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অংশ। প্রশাসনের দাবি, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে মার্কিন জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের দাবি, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের কমিউনিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। তার ভাষ্য, অপরাধীদের সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের কঠোর নীতির পাশাপাশি সমালোচনাও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানে শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাই নন, এমন অনেক মানুষও আটক হয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। এমনকি কারও কারও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিপত্র কিংবা প্যারোলের প্রয়োজনীয় নথি থাকা সত্ত্বেও তাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার যুক্তি তুলে অভিযান আরও বিস্তৃত করছে, অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং বৈধ অভিবাসীদের হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ