প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:২১ পিএম আপডেট: ০৪.০৮.২০২৬ ১:২২ পিএম (ভিজিট : ৩)

বাংলাদেশেসহ ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
পারস্পরিক শুল্কের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা জোরপূর্বক শ্রম শুল্কও মামলার মুখে পড়েছে। এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটির ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন ২৫ অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় সোমবার মামলা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা আদালতের এক রায়ে বাতিল হয়েছে। নতুন কৌশল হিসেবে গত ২৪ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির কথা বলে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ করে শুল্ক আরোপ হয়। যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে ১০ শতাংশ। এটি আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি ধারা প্রয়োগ করে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করলে সেই দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে। তবে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে। এতে বিচারকদের কাছে শুল্ক বাস্তবায়ন স্থগিত, বেআইনি ঘোষণা এবং সরকারকে অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের যে কথিত সমস্যা আছে, সেটির সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) আরোপ করা একচেটিয়া বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
ইউএসটিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর আরোপ হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক।
জোরপূর্বক শ্রম শুল্কের এই নতুন চ্যালেঞ্জের জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সোমবার মুখপাত্র কুশ দেশাই এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের পদক্ষেপটি আইনসিদ্ধ। মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো অযৌক্তিক কাজ, নীতি ও চর্চা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই