প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম (ভিজিট : ৪)

জাতীয় দলের পাঁচ ক্রিকেটারের চোটের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বিসিবি যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, অনেকে রসিকতা করে তাকে বলছে স্বাস্থ্য বুলেটিন! এককথায় জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেলের জন্য সুখবর নেই বিজ্ঞপ্তিতে। নাহিদ রানা আট সপ্তাহের জন্য খেলার বাইরে, শরিফুল ইসলামও খেলতে পারবেন না প্রথম টেস্ট। ডারউইন টেস্টে পাওয়া যাবে না লিটন কুমার দাসকেও।
গতকাল শনিবার মেডিকেল বিভাগের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর টেস্ট দল গঠনের সিদ্ধান্তে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হয়েছে নির্বাচক প্যানেলকে। শরিফুল ও লিটনকে বাদ রেখে ঘোষণা করা হবে প্রথম টেস্টের দল। পিতৃত্বকালীন ছুটি বাতিল করে জাতীয় দলে যোগ দিতে হচ্ছে এবাদত হোসেনকে। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমানে ইতালি রয়েছেন তিনি। ২৯ জুলাই দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য বায়োমেট্রিকস দেবেন এবাদত। এক দিনে ভিসা পেলে ৩১ জুলাই রাতে নাজমুল হোসেন শান্তদের সঙ্গে রওনা হতে পারবেন। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে ১৩ আগস্ট থেকে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টের সিরিজের জন্য ১৭ জনের দল চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সেভাবে পরিকল্পনাও করেছিল বিসিবি। নাহিদ, শরিফুল ও লিটনকে না পাওয়ায় প্রথম টেস্টের দল এখন ১৫ জনের। রিহ্যাব শেষ করে লিটন-শরিফুল ফিটনেসে উত্তীর্ণ হলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে দ্বিতীয় টেস্টের দলে। লিটনের জায়গায় নেওয়া হতে পারে জাকের আলীকে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে রান পাওয়ায় নির্বাচকদের নজরে আছেন তিনি। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬১ ও ৫৬* রান করেছেন সিলেটে। শরিফুলের জায়গায় এবাদতকে রেখে সাজানো হয়েছে পাঁচজনের পেস বোলিং ইউনিট। এই ইউনিটকে লিড দেবেন তাসকিন আহমেদ।
কলম্বো ক্যাপসের হয়ে শুক্রবার ম্যাচ খেলা হাসান মাহমুদ জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন কাল। পেস ইউনিটের বাকি দুই সদস্য খালেদ আহমেদের সঙ্গে নেওয়া হতে পারে রবিউল হককে। জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট দলে ছিলেন তিনি। মুস্তাফিজুর রহমানসহ চারজন পেসারের চোট থাকায় বিকল্পও নেই নির্বাচক প্যানেলের হাতে।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজ নিয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নাজমুল হোসেন শান্তদের। ডারউইন ও ম্যাকয়ের ড্রপ ইন উইকেটে আগুনঝরা বোলিং করার স্বপ্ন ছিল নাহিদ রানার। তাঁর সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে চোট। গুরুত্বপূর্ণ তিন ক্রিকেটারকে ছাড়া খেলতে হবে বহুল প্রতীক্ষিত সিরিজটি।
এর পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছু আশা করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘অস্ট্রেলিয়া আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে কঠিন। অনেক দিন পর অস্ট্রেলিয়ার সেরা দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এটাও তো একটা বড় পাওয়া। বাংলাদেশকে ওরা এখন সমীহ করে। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারলে ভালো হবে। হারি-জিতি সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলি। আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংটা ভালো করতে পারলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে ম্যাচে। হ্যাঁ, একটু দুর্বল বোলিং সাইড নিয়ে যেতে হচ্ছে। এর পরও তাসকিন, হাসান মাহমুদ, এবাদত, খালেদ টেস্টে ভালো করে। নাহিদের থেকে তাদের টেস্ট অভিজ্ঞতা বেশি। আমাদের ব্যাটিং ভালো হলে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টে ভালো করার সুযোগ থাকবে।’
সুজনের দৃষ্টিতে বোলিং নয়, দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা। জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডেতে ১৪২ ও ২৪৮ রান তাড়া করতে না পারা ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন তিনি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই