প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ পিএম আপডেট: ১৯.০৭.২০২৬ ১:১০ পিএম (ভিজিট : ১৩)

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্প্রচারসত্ত্ব সরাসরি কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ২০২২ সালের সম্প্রচারসত্ত্ব কেনাকাটায় মধ্যসত্ত্বভোগীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর খেলা সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এর প্রায় পুরো অর্থই আদায় করা হয়েছে। ফলে সরকারের ওপর নগদ ব্যয়ের চাপ মাত্র তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এমনকি আলোচনার মাধ্যমে এই ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচারসত্ত্ব কেনা হলেও তা মধ্যসত্ত্বভোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। সে সময় বিটিভি ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচারসত্ত্ব কিনেছিল এবং বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাছে আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিভিন্ন সত্ত্ব বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছি। যা দুর্নীতি ও লুটপাটের কেন্দ্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এবার ফিফার ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের পাওনা পরিশোধের অর্থও আমরা বেসরকারি উৎস থেকে সংগ্রহ করেছি। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উদ্যোগে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিফার পাওনা পরিশোধের পরও যে তিন-পাঁচ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে, সেটিও সাব-লাইসেন্সিং থেকে আদায় করা হবে। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারের আর্থিক ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, এবার সরকার সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করায় মধ্যসত্ত্বভোগীর সুযোগ তৈরি হয়নি। এটি জাতির জন্য একটি সুখবর। ফলে এবার সরকারের রাজস্বের ওপর কোনো চাপ পড়েনি। এর ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এবং কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীও নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার ব্যবস্থাপনায় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২২ সালের সম্প্রচারসত্ত্ব কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চলছে।
এ বিষয়ে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুদকও একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে তথ্য মন্ত্রণালয় দুদকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করবে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহে আলম বলেন, সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন ধরনের সাইবার হামলার আশঙ্কা ছিল। তবে বিটিভির প্রকৌশলী, টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্প্রচারসত্ত্বের শর্ত অক্ষুণ্ন রেখে সফলভাবে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিশ্চিত করা হয়েছে।
তরুণদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করতে সরকার 'স্পোর্টস কার্ড' চালুর পরিকল্পনা করছে বলেও জানান মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই