
জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতিটি মামলায় আসামির সংখ্যা অনেক হওয়ায় তাদের অবস্থান, ভূমিকা ও ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ধাপে ধাপে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জুলাই মামলার অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, "ডিবিতে ৫৯টি মামলা তদন্ত করছি। প্রতিটি মামলায় আসামির সংখ্যা অনেক। আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা যাচাইয়ের বিষয় আছে। ফরেনসিকেরও বিষয় আছে। আমরা সবকিছু নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করছি। এই আন্দোলন সংক্রান্ত প্রায় ৪০ জিবি তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলো নিয়ে কাজ করছি এবং আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিবেদন দেব।"
জুলাই আন্দোলন ঘিরে শুধু ডিএমপিতেই শত শত ভুয়া মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই ঘটনায় তিন-চারটি পর্যন্ত মামলা হয়েছে এবং এ নিয়ে "মামলা বাণিজ্য" হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। যারা এই বাণিজ্যে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এই মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের একটি মনিটরিং সেল আছে, যেখানে ১৫ দিন পরপর মামলাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরেও একটি মনিটরিং সেল রয়েছে, সেখানেও মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। কেউ যদি ভিন্ন উদ্দেশ্যে মামলা করে থাকে, আমরা তাতে সায় দেব না। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, মামলাগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে একমাত্র প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হবে।"
তদন্তে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশাল পরিমাণ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করতে হচ্ছে। আসামির সংখ্যাও অনেক এবং একেক ঘটনায় একেক রকম আসামি করা হয়েছে। সব কিছু যাচাই-বাছাই করে মামলায় যেন সঠিক তথ্যই উঠে আসে, আমরা সে চেষ্টাই করছি।"