খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সমর্থকদের

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

খেলাধুলা

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠের উত্তাপ এবার

2026-07-16T10:52:46+06:00
2026-07-16T10:52:46+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সমর্থকদের
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ এএম   (ভিজিট : ১০)

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারিতেও। খেলা শেষে স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কিছু এলাকাতেও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন সময় থেকেই গ্যালারির পরিবেশ ছিল উত্তপ্ত। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে বারবার বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলছিল। ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরে গেলে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের উল্লাস আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কটূক্তি ও উসকানিমূলক মন্তব্য বিনিময়ের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও বাইরের চত্বরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজন সমর্থককে আটক করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এই উত্তেজনা শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মতো শহর, যেখানে লাতিন আমেরিকান ও ব্রিটিশ অভিবাসীদের উপস্থিতি বেশি, সেখানেও খেলা শেষে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের কয়েকটি পাব ও সড়কেও ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছিল। ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আর্জেন্টিনার একাংশের সমর্থক দুয়ো দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ভিআইপি বক্সে উপস্থিত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যামকে লক্ষ্য করেও ১৯৯৮ বিশ্বকাপের লাল কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রুপ করা হয়। মাঠের ভেতরেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়, যার প্রতিফলন দেখা যায় গ্যালারিতেও।

ফুটবল ইতিহাসে গত কয়েক দশক ধরে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই বিশেষ বৈরিতার প্রতীক হয়ে আছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র মাত্রা পায়। এবারের সেমিফাইনালেও মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির সংঘর্ষ নতুন করে সেই পুরোনো বৈরিতারই বহিঃপ্রকাশ হয়ে সামনে এসেছে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ