হরমুজে উত্তেজনার জেরে ইরানে রাতভর মার্কিন হামলা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জাহাজে হামলার

2026-07-12T10:08:20+06:00
2026-07-12T10:08:20+06:00
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

হরমুজে উত্তেজনার জেরে ইরানে রাতভর মার্কিন হামলা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৮ এএম   (ভিজিট : ১২)

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর তারা চলতি সপ্তাহে তৃতীয় দফা হামলা পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। আইআরজিসির দাবি, নির্ধারিত নৌপথ ছেড়ে যাওয়া এবং জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি নামে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সেটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। জাহাজের একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে জাহাজের নাবিকেরা জাহাজ ত্যাগ করে একটি লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হলেও ইরান তা কাজে লাগায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেই বিবৃতি শেয়ার করে লেখেন, 'ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।'


এর আগে রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করা একটি জাহাজের দিকে নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশ না মানায় সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে জাহাজটিকে থামানো হয়। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, প্রণালি বন্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

সপ্তাহের শুরুতে ওমানের জলসীমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথে চলার সময় তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমার বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হন। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।

এসব ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেছে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে ট্যাংকারে হামলার ঘটনাগুলো ভুলবশত ঘটেছে এবং এর জন্য একটি নিয়ন্ত্রণহীন অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ইরানকে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে—এ মর্মে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ