প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩১ এএম (ভিজিট : ১৬)

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মেতেছেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড সোফিয়ান রাহিমি ও তার সতীর্থরা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এক নতুন গল্প লিখেছে মরক্কো। প্রথমার্ধে কানাডার তীব্র দাপট সামলে দ্বিতীয়ার্থের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে আটলাস লায়ন্স। এই জয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে উত্তর আফ্রিকার এই দেশ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে স্কোরলাইন গোলশূন্য থাকলেও খেলার মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল কানাডার কাছেই। শুরু থেকেই উচ্চগতির প্রেসিং ও ধারাবাহিক আক্রমণে মরক্কোকে চেপে ধরে সহআয়োজকেরা। খেলার ষষ্ঠ মিনিটে জনাথন ডেভিডের একটি বিপজ্জনক শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এরপর ১২তম মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির শক্তিশালী শটও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি।
কানাডার তীব্র চাপের মধ্যে ম্যাচের ২২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় মরক্কো শিবির। দলের অন্যতম সেরা তারকা ইসমাইল সাইবারি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হাইড্রেশন বিরতির পর কিছুটা ছন্দে ফেরে মরক্কো। ৩০তম মিনিটে রাহিমির শট থেকে আসে দলটির প্রথম অন-টার্গেট প্রচেষ্টা, যা সহজেই করতলগত করেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আচরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়ার মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপর জনাথন ডেভিড, আজেদ্দিন উনাহি এবং বিলাল এল খান্নুসও হলুদ কার্ড পান। প্রথমার্ধের ছয় মিনিট যোগ করা সময়েও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
তবে বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ এক বদলে যাওয়া মরক্কোকে দেখতে পায় দর্শকেরা। ৫০তম মিনিটে অনুশীলনে সাজানো এক ফ্রি-কিক থেকে দারুণভাবে এগিয়ে যায় তারা। আচরাফ হাকিমির ছোট পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে নিচু শটে জালের ঠিকানায় বল পাঠান আজেদ্দিন উনাহি। কানাডার একাধিক খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে যাওয়া সেই শটে তাকিয়ে দেখা ছাড়া গোলরক্ষক ক্রেপোর আর কিছুই করার ছিল না।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে কানাডা। তবে বুনুর নেতৃত্বে মরক্কোর রক্ষণভাগ আজ ছিল সম্পূর্ণ দুর্ভেদ্য। উল্টো সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি। ৮২তম মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। বক্সে দুই ডিফেন্ডারের চাপে পড়েও বল ধরে রেখে সতীর্থকে সুযোগ করে দেন দিয়াজ। সেই নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উনাহি।
এরপর ৮৭তম মিনিটে হেডে ক্রসবারে বল লাগিয়ে হ্যাটট্রিকের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন সুফিয়ান রাহিমি। তবে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তিনি। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দিয়াজের বাড়ানো পাস ধরে বাম দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসে নিচু শটে বল জালে জড়ান রাহিমি। তাঁর গোলেই মরক্কোর ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
প্রথমার্ধে চরম চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্থে কৌশলগত পরিবর্তন, কার্যকর পাল্টা আক্রমণ এবং দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের সুবাদে এক সহজ জয় তুলে নেয় মরক্কো। বিশেষ করে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন আজেদ্দিন উনাহি, আর বদলি হিসেবে নেমে একটি গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুফিয়ান রাহিমি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই