জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তবু রাজনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও রাজনীতিতে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এখনো কাঙ্ক্ষিত

2026-07-04T19:43:57+06:00
2026-07-04T19:43:57+06:00
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

কর্মশালায় বক্তারা
জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তবু রাজনীতিতে অর্থবহ অংশগ্রহণ সীমিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ১৩)

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ এবং ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও রাজনীতিতে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান।


তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক না রেখে রাজনৈতিক অধিকার, নেতৃত্বের বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।


শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ ও শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও নারীর অংশগ্রহণের পথসমূহ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএস ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস)-এর যৌথ উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রী, সংগঠক এবং স্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নারী কর্মীরা অংশ নেন। এতে রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম, গণতন্ত্রীকরণ, সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।


জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব এবং প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ এখনো সন্তোষজনক নয়। তিনি বিভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক কর্মীদের সমান রাজনৈতিক অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী। তিনি বলেন, ক্লায়েন্টেলিজম বা পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের অন্যতম বড় অন্তরায়। তার মতে, লবিং, দুর্নীতি এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ঘাটতি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে সীমিত করে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে নারীর অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দ্য কার্টার সেন্টারের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাম্মী লায়লা ইসলাম। তিনি দলীয় শাসন, গণতন্ত্রীকরণ, রাজনৈতিক অভিজাত, ক্লায়েন্টেলিজম এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ইন্টারেক্টিভ আলোচনা করেন।


নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাম্মী লায়লা ইসলাম বলেন, সময়ের সঙ্গে নারীর প্রতিনিধিত্ব কিছুটা বাড়লেও বিভিন্ন কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখনো সীমিত। তিনি বলেন, কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রভাব দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রার্থী নির্বাচন এবং নারীর নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে।


আলোচনায় অংশ নেওয়া নারী রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক দলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিকেন্দ্রীকরণ এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


কর্মশালার সমাপনী পর্বে বক্তারা অভ্যন্তরীণ দলীয় গণতন্ত্র জোরদার, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত এবং নারীর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ