২০২৮ থেকে নিবন্ধনহীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে না

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

শিক্ষা

২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া

2026-07-04T15:36:35+06:00
2026-07-04T15:36:35+06:00
রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কড়া ঘোষণা
২০২৮ থেকে নিবন্ধনহীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলবে না
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ৩১)
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ : সংগৃহীত ছবি

মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ : সংগৃহীত ছবি

২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।


শনিবার রাজধানীর কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের আওতাধীন বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আসুক। ২০২৮ সাল থেকে নিবন্ধনবিহীন কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।”


তিনি জানান, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা, ইংরেজি ও অন্যান্য সব ধরনের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ন্যূনতম শিক্ষাগত মান (মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড) নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলা পাঠ এবং বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সভায় উপস্থিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান মুজাহিদ বলেন, দেশের বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় বাজেটের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।


শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষকে স্মার্ট ক্লাসরুমে রূপান্তর করা গেলে আলাদা আইটি ল্যাবের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।


তিনি প্রতিটি বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি স্থাপনে উদ্যোগ নিলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।


কোচিং বাণিজ্যের সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমরা কোচিং বাণিজ্য চাই না। শিক্ষার্থীরা যেন বিদ্যালয় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা পায়। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের ভেতরেই অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।”


তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ইতোমধ্যে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে খাতা-কলম এবং ক্রীড়াভিত্তিক বিষয় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের নিবন্ধন-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও করের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


বিদ্যুৎ বিল মওকুফের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষকদের জন্য মাইক্রো ট্রেনিং কর্মসূচি শুরু হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি কমপ্লেইন সেল চালু করা হয়েছে।


সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি এবং সুপারিশ তুলে ধরেন।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ