
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালুর পরপরই নতুন এক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দেশটির রেলওয়ে বিভাগ জানিয়েছে, টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আগমন বাড়ার সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, আর এই সম্ভাবনায় আশায় বুক বাঁধছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটক আগমন বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাথায় রেখে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ভারত। তবে ঠিক কবে নাগাদ ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে, তা এখনও অনিশ্চিত। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে উভয় দেশের নাগরিকদের।
বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজিব সাক্সেনা এক সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তার ভাষায়, "পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং যখনই নির্দেশ আসবে, তখনই আমরা পরিষেবা চালু করব।"
এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন—মিতালী এক্সপ্রেস প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকায় পরিষেবা দেওয়ার উপযোগিতা হারিয়েছে বলে যে আশঙ্কা রয়েছে, তেমনি মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসও দীর্ঘদিন বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ রাজনৈতিক নির্দেশ এলে পশ্চিমবঙ্গ রেল কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত?
জবাবে রাজিব সাক্সেনা বলেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত কোচের মজুত রয়েছে এবং বিশেষ ট্রেনের ক্ষেত্রে যেভাবে একাধিক কোচ একত্র করে ট্রেন প্রস্তুত করা হয়, একইভাবে নতুন ট্রেন তৈরি করাও কঠিন কিছু নয়। তিনি বলেন, "আমাদের তরফ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তবে এখনো কোনো নির্দেশ আসেনি—এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই আমরা ট্রেন চালিয়ে দেব।"
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে মিতালী, মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় এলেও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে, যার প্রভাবে স্থল বাণিজ্য, ভিসা ও সীমান্তসহ নানা ইস্যুতে সংকট তৈরি হয়।
তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে উন্নতি ঘটে। গত ২৫ জুন বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেয় ভারত সরকার, এবং ২৮ জুন থেকে শুরু হয় আবেদন প্রক্রিয়া। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কলকাতার ব্যবসায়ীরাও।