মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম (ভিজিট : ২৮)

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে হবে এমন দাবি তুলেছিলাম সংসদে। এই কারণে অনেক সিন্ডিকেট আমার বিরুদ্ধে খেপে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করবো না, ইনশাআল্লাহ।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
প্রবাসীদের পক্ষে সব সময় জোরালো বক্তব্য রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা এই দাবি ইনশাআল্লাহ জোরালোভাবে উত্থাপন করব সংসদে। প্রবাসীদের ভোগান্তি নিয়ে আমরা কথা বলেছি, আপনারা দেখেছেন। আজকে খবর পেলাম যে একদল আমার বিরুদ্ধে খেপে গেছে। আমি কেন বললাম মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় লোক পাঠাতে হবে। দালালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি কি দালালের কোনো তালিকা দিয়েছি? আপনাদের জানা মতে আমি কি কোনো সংস্থার কথা বলেছি? জানা মতে বলিনি, তাহলে কিছু লোকের গায়ে এত কষ্ট লাগে কেন?
তিনি আরও বলেন, এই সিন্ডিকেট শুধু মালয়েশিয়ায় নয়। সারা বিশ্বেই আমাদের এই গরীব লোকগুলোকে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়। এরপরে তারা প্রতারিত হয়। সেখানে গিয়ে আবার দেখা যায় যে তার ওই ভ্যালিডিটিটাও নাই। জেলে থাকে। তা আমরা কি এগুলো নীরবে হজম করব? দেখতে থাকবো? না। এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা কী করতে পারবো? আমরা সংসদের ভেতরে চিৎকার দেবো। আওয়াজ তুলবো। বাইরেও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করবো।
মুদি দোকানের কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রান্তিক ব্যবসায়ী মুদি দোকানদাররা গরীব মানুষ। তাদের উপরে উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছিল। মানে প্রস্তাবনা এসেছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটাও আউট হয়ে গেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল।
অর্থবছর প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা অর্থ বছর পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের দেশে একটা দানব আছে, উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়। শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। এসে ঝড়ের গতিতে কাজ শুরু করে। বৃষ্টি ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সঙ্গে মিশে যায়। কেন এটা করতে হবে তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা বলেছিলাম, আমাদের আবহাওয়া এবং সিজন অনুযায়ী এটা হোক জানুয়ারির এক থেকে ডিসেম্বরের ৩১। তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দৈত্য ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানিতে পানি হয়ে ভেসে যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন, বিদেশ থেকে সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের উপরে একটা ভালো ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব এসেছে। আমরা এটা তুলে দিতে বলেছিলাম। অর্থমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তব্য বললেন যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে ভালো হতো। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি।
জামায়াত নেতা বলেন, এটা একটা ক্ষুদ্র শিল্প। এটাকে প্রমোট করলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাও আমরা অর্জন করতে পারব। কিন্তু যদি অতিরিক্ত কর আরোপ হয় তাহলে বিদেশের চাহিদা আমরা মেটাতে পারব না। তখন কমপিটিশনে আমরা টিকব না।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম, আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনবো না। আমরা সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেবো না। কিছু বন্ধুরা ওই গুড়ের সঙ্গে কিছু লবণ না ছিটালে আরাম পায় না। আমরা যা বলেছি, স্পষ্ট বলেছি। অস্পষ্ট কোনো কথা বলিনি। এখানে যোগ করেছে, ফ্ল্যাট নেবো না। এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা কি সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওইটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে, তত সময় উনি এটা ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নাই। ছেড়ে দিতে হবে। এটা নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়। আমরা আরও বলেছিলাম, সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে না হয়, আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায়, এখানে কোনো অপরাধ নেই।
শফিকুর রহমান বলেন, এই যে বাজেটটা এসেছে, বলা হচ্ছে এটা সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট। কিন্তু আমরা যদি মানি অ্যান্ড মার্কেট ইনফ্লেশনের কথা চিন্তা করি তাহলে এটাকে সর্বকালের সর্ববৃহৎ বাজেট বলা যাবে না। বড় বাজেট করা কোনো অপরাধ নয়। একটা জাতির মিশন থাকলে বড় বাজেট লাগবে। চ্যালেঞ্জটা কয়েক জায়গায়— একটা হলো বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা, এর চাইতে বড় হলো দুর্নীতি। এই দুই জায়গায় যদি বড় সংস্কার আনা না যায়, বাজেট হবে কিন্তু বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না। এই বাজেট থেকেই ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এস মাহমুদ জুবায়ের, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি সেলিম উদ্দিন, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হামজালা ও সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম।
আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।