শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অপরাধ

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলের চালক সাজিদ চৌধুরী রাফির (২১) মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা

2026-06-22T12:18:43+06:00
2026-06-22T12:18:43+06:00
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম   (ভিজিট : ৭১)

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলের চালক সাজিদ চৌধুরী রাফির (২১) মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

সোমবার (২২ জুন) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন।

সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোটরসাইকেলের চালক সাজিদ চৌধুরী রাফি সোমবার (২২ জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মূল অভিযুক্ত মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।

এর আগে ৯ জুন রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করেন। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। পরে তাকে একটি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তে পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে স্থানীয় দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাঁরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁদের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একাধিক মামলা আছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। স্বজনদের ধারণা, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ইট ছোড়া না–ও হতে পারে। সম্পত্তি–সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।

স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার কয়েক দিন আগে এলাকার কয়েকজন যুবক সাজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু করেছিলেন। এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনলে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

সাজিদ রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম শামসুল চৌধুরী। মা তানিয়া চৌধুরী। সাজিদ তাঁর বাবা–মায়ের একমাত্র সন্তান।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ