প্রকাশ: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম (ভিজিট : ১২৪৯)

প্রতীকী ছবি
একদিকে গরমে নাজেহাল অবস্থা, অন্যদিকে শুষ্কতার জ্বালায় অস্থির ত্বক। মুখে আর্দ্রতা ফেরাতে তেল, ক্রিম কিংবা লোশনেই ভরসা করা উচিত। কিন্তু এতে আরও বেশি ঘাম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দিন দিন আরও নিস্তেজ হয়ে পড়ছে ত্বক। তা নিয়ে দিশেহারা অনেকেই। তাই মধ্যপন্থা বেছে নেওয়া যেতে পারে। তাতে ঘামের ভয়ও থাকবে না, আবার ত্বকের আর্দ্রতাও ফিরে আসবে। এমন তিনটি টোটকা প্রয়োগ করতে পারেন, যাতে প্রসাধনী মাখার পরের ঘামের দুশ্চিন্তাও থাকবে না।
সারা দিনে ক্রিম ও লোশনের অস্বস্তিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে রাতের পরিচর্যায় ভরসা রাখতে পারেন। তার জন্য তিনটি প্যাক বা মাস্ক বানিয়ে নেওয়া যায় বাড়িতেই। সেগুলো মেখে অপেক্ষা করে ধোয়ার প্রয়োজন নেই। কমে যাবে খাটনিও। মুখে মেখে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালে উঠে ত্বক অনেক বেশি সতেজ ও কোমল মনে হবে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, তিনটি প্যাক বানিয়ে যেভাবে মুখে মাখবেন—
১. কেসর ও অ্যালোভেরা
দীর্ঘদিন ধরেই ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে ত্বকের প্রদাহ কমে, তাপমাত্রা নামে এবং শীতল অনুভূতি পায়। এর পাশাপাশি আর্দ্রতা বজায় রাখতেও সাহায্য করতে পারে। তবে তার সঙ্গে কেশরের গুণ যোগ করে আরও বেশি উপকার মিলবে। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন 'সি' ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে পারে।
যেভাবে প্রয়োগ করবেন
ত্বক পরিচর্যার ২০ মিনিট আগে ৩-৪টি কেসর নিয়ে এক চামচ টাটকা অ্যালোভেরার রসের মধ্যে চুবিয়ে রাখুন। এ সময়ের মধ্যে কেশরের সক্রিয় যৌগগুলো ধীরে ধীরে জেলের মধ্যে প্রবেশ করবে। তারপর পাতলা করে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। এভাবেই ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে নজর কাড়বে পরিবর্তন।
২. চন্দন ও গোলাপজল
সাধারণত পুরু পরতে চন্দনের ফেসপ্যাক মাখা হয়। কিন্তু সারারাত ওভাবে রেখে দিলে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। একে তো গরম, তার ওপরে মুখের ওপর ফেসপ্যাক শুকিয়ে গেলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যাবে। তাই এর সঙ্গে অল্প গোলাপজল মিশিয়ে দিলে ত্বকের জন্য উপকারী হবে। ত্বকে সতেজ অনুভূতি এনে দিতে পারে এবং গরমের অস্বস্তি কিছুটা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। আর ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে চন্দন। এ ছাড়া ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।
যেভাবে প্রয়োগ করবেন
এক চিমটে চন্দনগুঁড়োর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ গোলাপজল মিশিয়ে পাতলা করে মুখে মেখে নিতে হবে। সকালে উঠে দেখবেন, ত্বক বেশ নরম হয়ে গেছে।
৩. কাঁচা দুধ
ল্যাকটিক অ্যাসিডে ভরা কাঁচা দুধ ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে পারে। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই দুধ দিয়ে ত্বকচর্চা করলে ত্বকের সুরক্ষাস্তরের স্বাস্থ্য ভালো হয়। তবে ফোটানো দুধ নয়, ফ্রিজ থেকে বার করে কাঁচা দুধই ব্যবহার করতে হবে ত্বকে। প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করবে এ দুধ।
যেভাবে প্রয়োগ করবেন
এক চামচ কাঁচা ঠান্ডা দুধ নিতে হবে। তুলার বল দিয়ে মুখে ও গলায় মেখে রেখে দিন। ঠান্ডা ব্যবহার করলে আরাম পাবে ত্বক। সকালে উঠে বুঝতে পারবেন, ত্বকের মৃত কোষগুলো ঝরে পড়ে ত্বক অনেক বেশি কোমল হয়ে গেছে।
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ