জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বাংলাদেশে

2026-05-21T20:26:24+06:00
2026-05-21T20:26:24+06:00
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাতীয় পরামর্শ সভায়
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৭৮)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বাংলাদেশে ডেল্টা প্ল্যান, প্রস্পেকটিভ প্ল্যান, ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান, জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান এবং সাম্প্রতিক মিটিগেশন প্ল্যানসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানা নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবায়নে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে। এসব পরিকল্পনা কার্যকর করতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা’ শীর্ষক জাতীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে খ্রীস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। এতে সভাপতিত্ব করেন সিসিডিবির প্রধান নির্বাহী জুলিয়েট কেয়া মালাকার।


সভায় বক্তব্য দেন জলবায়ু গবেষক ড. হাসিব মোহাম্মদ ইরফানুল্লাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মণীষ আগারওয়াল, জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ধরিত্রী কুমার সাহা এবং কর্ডএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাউয়ে ডিকস্ট্রাসহ অনেকে।


সভায় সিসিডিবির জলবায়ু সহনশীল ও সক্ষম কমিউনিটি গড়ে তোলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন জুলিয়েট কেয়া মালাকার। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিসিডিবি কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামোর মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।


তিনি আরও জানান, সিসিডিবির কার্বন নিঃসরণ হ্রাস প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৭৬৫টি উন্নত চুলা ব্যবহারের ফলে প্রতি পরিবার বছরে প্রায় ৩ দশমিক ২০ টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়া ক্লাইমেট সেন্টার ও ক্লাইমেট পার্কের মাধ্যমে স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু শিক্ষা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


ড. হাসিব মোহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন, যেখানে বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের চাহিদা রয়েছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের মাত্র ৬ দশমিক ২২ শতাংশ সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘নেচার-বেইজড সল্যুশন’ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর বলেন, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দকৃত ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হচ্ছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর। তাই এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।


মণীষ আগারওয়াল উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়ে এভিডেন্স-বেইজড প্রোগ্রামের ওপর গুরুত্ব দেন।


সভায় সিসিডিবির দশ বছরব্যাপী চলমান জলবায়ু প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জলবায়ু ও কৃষি গবেষক, শিক্ষক এবং উন্নয়নকর্মীদের নিয়ে একটি অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক উদ্বোধন করা হয়।











  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ