
ফাইল ছবি
দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জে। জেলার চার উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন কৃষক নিহত হয়েছেন। তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এসব ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জে নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (৩০) ও রহমত উল্লাহ (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরের আবুল কালাম (২৫) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোলা হাওরে বোরো ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তাঁদের মৃত্যু হয়।
নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার ধলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি বিকেলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্নূর রহমান।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় পৃথক ঘটনায় আরও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জেও বজ্রপাতে একজন নিহত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জে ৫ জন, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোণায় ১, কিশোরগঞ্জে ১ এবং হবিগঞ্জে ১ জনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাওরের মতো উন্মুক্ত এলাকায় কাজ করার সময় কৃষকেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। মেঘের গর্জন শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাওরাঞ্চলে বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে। ফলে মাঠে কৃষকের উপস্থিতি বেশি থাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে।