সময়মতো টিকা না দেওয়ায় হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

দেশব্যাপী হামে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে সময়মতো দুই ডোজ টিকা দিতে না

2026-04-18T09:16:58+06:00
2026-04-18T09:16:58+06:00
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সময়মতো টিকা না দেওয়ায় হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েছে
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৬ এএম   (ভিজিট : ১৫)

দেশব্যাপী হামে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে সময়মতো দুই ডোজ টিকা দিতে না পারায় শিশুদের হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ব্যাপকহারে বৃদ্ধির জন্য দায়ী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে টিকা ব্যবস্থাপনায় কোথায় ত্রুটি কিংবা অবহেলা ছিল, টিকার ঘাটতি ছিল কেন, তা খুঁজে বের করে, এ সকল জরুরি ব্যবস্থাপনায় কিংবা প্রোগ্রামে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাহলে ভবিষ্যতে হামের এ ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখার সম্ভাবনা থাকবে না  এবং এ সকল প্রোগ্রামে জড়িতরা সতর্ক থাকবে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন। হামে আক্রান্ত তিন জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং উপসর্গে দুই জনের মৃত্যু। আক্রান্ত  ১ হাজার ১১৫ জনের মধ্যে ১২৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৮৮ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে ৩৭ জনের মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ২১ হাজার ৪৬৭ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যায়। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনের।

বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জন্মের ৯ মাসে একডোজ (মিজেলস) ও ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ টিকা শিশুর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। এতে হামের মতো সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা কেনা নিয়ে খামখেয়ালিপনা করা হয়। টাকা বরাদ্দ নিয়ে অনীহা দেখায়। সময়মতো টিকা কেনায় বরাদ্দ দেয়নি। প্রচারসহ অন্যান্য কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। এসব কারণে বর্তমানে শিশুরা ব্যাপকভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান। তাদের অভিমত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। শিশুদের হামে অকাল মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী। জীবন রক্ষাকারী যে টিকাসহ ওষুধ সামগ্রীর কোনো বিকল্প নেই, সেই বিষয় সবসময় সতর্কতা জরুরি। এই বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম শিশুদের জীবন রক্ষাকারী বিষয়। এই ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি চিহ্নিত করা অতীব জরুরি। টিকা কেনা কিংবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অথবা টাকা বরাদ্দ নিয়ে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তাহলে এই ধরনের অতীব জরুরি ব্যবস্থাপনা জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে হামে আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় মাসের শিশুদের সংখ্যাই বেশি। কারণ, তারা সময়মতো দুই ডোজ টিকা অর্থাত্ ৯ মাস বয়সে এবং ১৫ মাসের সময়ের টিকা পায়নি।’ এটা অন্যতম কারণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, ‘টিকার ঘাটতি ছিল। সময়মতো না পাওয়া এটা একটি কারণ। টিকা বিষয়টি অতীব জরুরি শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ