
ফাইল ছবি
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরবঙ্গের অবহেলিত জেলা নীলফামারী। একসময়ের মঙ্গা-পীড়িত জেলা হিসেবেই দেশব্যাপী পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নীলফামারীর ভূমিপুত্র ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনকে পেয়ে জেলার মানুষ উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন নীলফামারীর মাটি ও মানুষের আপনজন। জননেতা তুহিনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিচয় হলো, তিনি সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য ভাগ্নে এবং বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজিন। সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা তুহিন ১৯৯৪ সালে নীলফামারীর মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ ও নীলফামারী-২ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নীলফামারী-২ সদর আসন থেকে এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটারের আটচল্লিশ শতাংশ। যদিও তিনি খুব সামান্য ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন। তার পরাজয়ে নীলফামারীর নাগরিক সমাজ বিস্ময় প্রকাশ করে। যার ফলশ্রুতিতে তিনি ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
জননেতা তুহিন তার প্রথম সংসদীয় আসন ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেন। এই দুই উপজেলায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও বিদ্যুৎ ছিল না বললেই চলে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই উন্নয়ন সাধিত হয়। জননেতা তুহিন সর্বশেষ নীলফামারী-২ সদর সংসদীয় আসনের নির্বাচনে নীলফামারীকে নিয়ে তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। মোটা দাগে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—নীলফামারীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উত্তরা ইপিজেডকে সম্প্রসারণ, নীলফামারীকে নিরক্ষরমুক্ত করা এবং নীলফামারীকে রংপুর বিভাগের মধ্যে মডেল জেলায় রূপান্তরিত করা। নির্বাচনের পর জননেতা তুহিন তার নির্বাচনী পরাজয়কে তুলনা করেন—‘তুহিন হারেনি, হেরেছে নীলফামারীর উন্নয়নের স্বপ্ন’। তবে ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মাধ্যমে তিনি ডোমার-ডিমলায় যে উন্নয়ন সাধন করেছেন, সেই ধারাবাহিকতায় নীলফামারী সদরের মানুষ প্রত্যাশা করে, তিনি তার হেভিওয়েট লিগ্যাসি কাজে লাগিয়ে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবেন।
জননেতা তুহিন জাতীয়তাবাদী ইঞ্জিনিয়ারদের কেন্দ্রীয় সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাব)-এর আহ্বায়ক। ফলে এক নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক বরাদ্দ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন, যা তার সদিচ্ছা ও কর্মক্ষমতার পরিচায়ক। ফলে নীলফামারীর জনগণ তাকে ঘিরে জেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে।
জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন নীলফামারীর সনাতন ধর্মাবলম্বী ও নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি নীলফামারীর হিন্দুদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। নীলফামারীর নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জননেতা তুহিন নীলফামারীর কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের জেলা পরিষদ বা পৌরসভার মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছেন। এছাড়াও জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন নীলফামারী জেলাকে মেডিকেল সিটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেন। তিনি মনে করেন, নীলফামারীতে ১০০০ বেডের চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মিত হলে জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তিনি নীলফামারী মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সর্বোপরি বলা যায়, নীলফামারীর মাটি ও মানুষের আপনজন জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের দু'চোখ ভরা স্বপ্নে শুধু নীলফামারীর উন্নয়ন। তাই উত্তর জনপদের অবহেলিত জেলা নীলফামারীর উন্নয়নের স্বার্থে জননেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনকে নীলফামারীর আপামর জনগণ টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় দেখতে চায়। নীলফামারীর গরিব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের নিরলস প্রচেষ্টা ও পুরো জেলাব্যাপী উন্নয়নের প্রবল আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি জননেতা তুহিন—নীলফামারীর মানুষের মানসপটে জেগে ওঠে দেশাত্মবোধক গানের সুরেই—
"আমার দু'চোখ ভরা স্বপ্ন,
ও দেশ, তোমারই জন্য।
থাকবে না তো দুঃখ-দারিদ্র্য,
বিভেদ, বেদনা, ক্রন্দন।
প্রতিটি ঘরে একই প্রশান্তি,
একই সুখের স্পন্দন।"
জয় হোক নীলফামারীর উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন।
লেখক: অ্যাডজুটেন্ট আসাদ মিলন
(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী)