প্রকাশ: রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম (ভিজিট : ১৫)

ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং করের আওতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং চলমান সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) ‘ন্যাশনাল মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলনকক্ষে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতিকে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল করতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু বড় প্রকল্প যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া গ্রহণ করায় দেশের ওপর ঋণের চাপ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইতোমধ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা এবং ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প গ্রহণে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ প্রকল্প নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
কর ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত সন্তোষজনক নয় এবং তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনও করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাই করের হার বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা বিস্তৃত করে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই ধারায় এগিয়ে নিতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘের ইউএন-ওএইচআরএলএলএসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ