জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বরে জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক শাফায়েত মীরের সঞ্চালনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে ময়লা সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা যিনি আছেন, তার সাথে অনেকবার কথা বলেছি। কিন্তু বারবারই একটা কথা উঠে আসে যে, জনবল সংকটের কারণে আমরা সঠিকভাবে কাজগুলো করতে পারছি না। মুক্তমঞ্চের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে, তার পাশেই একটি ময়লার ভাগাড় আছে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়লার ভাগাড় ছিল একটি, যেটাকে আমরা রাঙামাটি নামে চিনি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে অসংখ্য জায়গা। আমরা দেখেছি জেনারেটর বাজারের পাশে সেখানেও ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। তাই, আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, এই ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখাটা আমাদের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। এর মাধ্যমে ডেঙ্গু সহ আরও অনেক রকম রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ডেঙ্গু কন্ট্রোল সেল ছিল। সেটি মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে বলব পুনর্গঠন করার জন্য। সকল অংশীদারকে, এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণ রসায়ন এবং মেডিকেল সেন্টার, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং জাকসুকে অন্তর্ভুক্ত করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই কমিটি রিফর্ম হলে, এই কমিটি একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবে। জনবল সংকট বিষয়টি বারবার এসেছে। আমাদের যে শূন্য জনবল, শূন্যপদগুলো আছে, আমাদের বিশ্বাস মাননীয় উপাচার্য এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, যে বর্জ্য আমাদের দ্বারা তৈরি হয়, বর্জ্যটি যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার যে অভ্যাস, সেটি যদি কমে যায়, আমরা যদি ডাস্টবিনে সেটি ফেলি, তাহলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী যারা আছেন, তাদের কষ্ট কমে আসবে এবং "জাকসুর" এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন আরো সহজতর হবে। সবাই জাহাঙ্গীরনগরকে চেনে প্রকৃতির এক লীলাভূমি হিসেবে। অথচ যারা এখানে বসবাস করে, তাদের আপত্তির জায়গাটা হচ্ছে এখানে জীবন ধারণ করা কঠিন হয়ে গেছে। এই যে সকলের ধারণার সাথে বাস্তবতার পার্থক্য, এই পার্থক্যটা দূর করার দায়িত্ব আমাদের, যারা আজকে কথা বলছি এবং শুনছি। ফলে, আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি এবং অনুরোধ করছি, যারা আমাদের এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে থাকবেন, এটিকে শুধু আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে নিবেন এবং পরিচ্ছন্নতার এই বিষয়টাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সহযোগিতা করা প্রয়োজন এবং অংশগ্রহণ প্রয়োজন, সে বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, ট্রেজারার ড. আব্দুর রব, কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামসহ জাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দগণ।
বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ঝাড়ু হাতে রাস্তা পরিষ্কার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন।
ডেল্টা টাইমস্/সামিয়া তাসনীম স্বাতী/আইইউ