সম্ভাবনা থাকার পরও আসাদুর রহমান চক্রে মান হারাচ্ছে ডিএসই!

অর্থনৈকিত ডেস্ক

অর্থনীতি

যেকোনো দেশের অর্থনীতি সহজে বুঝার জন্য মোটাদাগে যে চারটি প্যারামিটার গুরুত্বপূর্ণ তার ভিতরে ব্রড ইনডেক্স অন্যতম। বাংলাদেশের ব্রড

2026-04-03T17:12:35+06:00
2026-04-03T17:15:44+06:00
বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

সম্ভাবনা থাকার পরও আসাদুর রহমান চক্রে মান হারাচ্ছে ডিএসই!
ডিএসই আর কত তলানিতে গেলে সবার হুঁশ ফিরবে!
অর্থনৈকিত ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ পিএম  আপডেট: ০৩.০৪.২০২৬ ৫:১৫ পিএম  (ভিজিট : ১৯৬)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যেকোনো দেশের অর্থনীতি সহজে বুঝার জন্য মোটাদাগে যে চারটি প্যারামিটার গুরুত্বপূর্ণ তার ভিতরে ব্রড ইনডেক্স অন্যতম। বাংলাদেশের ব্রড ইনডেক্স হলো ডিএসইএক্স। ব্রড ইনডেক্সকে সত্যিকারের মর্যাদাশীল প্যারামিটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দেশের প্রাচীন পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি বা জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
সম্ভাবনা থাকার পরও ডিএসই যে কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি তার পিছনে হাতেগোনা যে কয়েকজন মানুষ দায়ী তার ভিতরে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চীফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মাদ আসাদুর রহমান অন্যতম।
প্রায় দেড় দশক আগে যোগদান করার পর নিজের স্বার্থ ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে মোহাম্মাদ আসাদুর গংরা মানবসম্পদ-সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে এমন পরিবর্তন করেছেন যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে।
যেমন, পদন্নোতির বিষয়টির দিকে খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে যে আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রমোশনের সময় হলে ডিপার্টমেন্ট বা বিভাগের প্রধান সুপারিশ করলে মোটামুটি নিশ্চিতভাবে প্রমোশন হয়ে যেত এবং প্রমোশনের সাথে একটা ইনক্রিমেন্ট যোগ হতো।
মোহাম্মদ আসাদুর রহমান গংরা যখন মানবসম্পদ নীতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তখন প্রমোশনের বিষয়ে শুধু ডিপার্টমেন্ট হেড বা বিভাগের প্রধানের সুপারিশকে পর্যাপ্ত বিবেচনা না করে ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে বিষয়টি তুলে ভোটের ব্যবস্থা করার মতো উদ্ভট ও অযৌক্তিক এক সিস্টেম চালু করে অনেক মেধাবী ও সম্ভাবনাময় কর্মকর্তার প্রমোশন বন্ধ করার পাশাপাশি অবৈধ ও অনৈতিক পন্থায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা কর্মকর্তাকে একসাথে ডাবল প্রমোশন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ০৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যে অফিসার ডিএসইর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এখন নিজেই একটা ব্রোকারেজ হাউসের সাথে জড়িত আছেন।
হোম লোনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ভেলকিবাজি থেমে থাকেনি। হোম লোনের বিষয়ে উনি যে তেলেসমাতি কান্ড দেখিয়েছেন তা রীতিমতো আরব্য উপন্যাসের কাহিনিকেও হার মানায়।
প্রথমত, হোম লোন চালু হওয়ার পর যোগ্যতা অনুযায়ী বেসিক স্যালারির ১২০টার সমপরিমাণ টাকা দেয়া হতো কিন্তু ২০১০ সালের পর দেশের শেয়ারবাজারে ধ্বস নামার পর হোম লোন বিষয়টি এক প্রকার বন্ধ করে রাখা হয়।
একটা পর্যায়ে শুধু নিজে ফ্লাট কেনার জন্য আসাদুর রহমান হোম লোন বাবদ এই খাতে অফিসে ৩ কোটি টাকার একটা বরাদ্দ পাশ করান।
বিষয়টি সুচতুরভাবে সম্পন্ন করার জন্য হোম লোনের সার্কুলার দেয়া হয় যাতে সবাই আবেদন করেন। কিন্তু শুভঙ্করের ফাঁকি তো অন্য জায়গায়।
আগেই ১২০টা বেসিকের জায়গায় ৭২টা বেসিক ও লোন পরিশোধের কিস্তি ১৫ বছরের জায়গায় ১০ বছর করা হয়।
বিষয়টি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে হোম লোন পেলেও কেউ কাজে লাগাতে না পারে। মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি প্রশিক্ষণের মতো বিষয়টিও এক প্রকার বন্ধ। অতীতে যারা দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছেন তারা সব সময় যোগ্যতার ভিত্তিতে গিয়েছেন তা কোনোভাবে বলা যাবে না।
এত বড় প্রতিষ্ঠানের চীফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে আসাদুর রহমান প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত করলেও নিজের সুবিধা সঠিকভাবে আদায় করা ছাড়া প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সেরকম দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি।
ডিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভুঁইয়াকে বুঝিয়ে আসাদুর রহমান নিজে ও আর দুইজন জিএম প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রামে না থাকা সত্ত্বেও সিনিয়র জিএম হয়েছিলেন কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার চিঠির প্রেক্ষিতে সিনিয়টি কেটে গেলেও পরে আসাদুর রহমান ও আরেকজন পুরোনো জিএম সিনিয়র জিএম হন, যা পরবর্তীতে আবার কেটে যায়। নিজের স্বার্থ আদায় করার জন্য যত ধরনের কৌশল অবলম্বন করা দরকার তার সবই করেছেন।
সর্বশেষ কোনো ধরনের সার্কুলার ছাড়াই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবার পর বেতন বাড়ানোর মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন যা সচরাচর নজিরবিহীন ঘটনা কিন্তু আসাদুর রহমানের জন্য সবই স্বাভাবিক কারণ কোনো এক অদৃশ্য হাত তাকে বরাবর বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে আসছে।
২০১৩ সালে ডিমিউচুয়ালাইজেশন হওয়ার পর থেকে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক বা ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টরের সংখ্যা ট্রেকহোল্ডার ডিরেক্টরের চেয়ে বেশি এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের ভিতর থেকে বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
এগজিকিউটিভ লেভেলের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রভাবশালী স্বতন্ত্র পরিচালকদেরকে বিভিন্ন উপহার দেয়াসহ বাসার বিভিন্ন সার্ভিসের কাজ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে বোর্ডের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বজায় রেখেছেন আসাদুর রহমান।
দিন শেষে সর্বনাশ হচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কারণ প্রতিষ্ঠানের মান তলানিতে নামার পাশাপাশি সুনামের বালাই বলতে কিছু নেই। প্রথম সারির কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যে মান থাকা দরকার ডিএসই তার ধারেকাছে নেই।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com