প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম (ভিজিট : ৪৩)

প্রতীকী ছবি
অসুস্থতা সুস্থতা সবই আল্লাহর দান। রোগ বালাই দুনিয়ার স্বাভাবিক একটি বিষয়। রোগাক্রান্ত হয়নি এমন মানুষ নেই। তবে ইসলামের নির্দেশ হলো রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতন হওয়া। এই বিষয়ে নবীজিও গুরুত্বারূপ করেছেন।
হজরত রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অসুস্থ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হও।’
চিকিৎসকদের মতে, রোগ আরোগ্যের তুলনায় রোগ প্রতিরোধই উত্তম। এইডস তেমনি একটি রোগ; যা প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই। মরণব্যাধি এইডস সম্পর্কে সবাই কম-বেশি অবগত। বিশ্বে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মহামারির ন্যায়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন এমন কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। মৃত্যুই এইডসের অনিবার্য পরিণতি। চিকিৎসকরা এ রোগের প্রতিরোধে বেশকিছু পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
যেসব কারণে এই রোগের ভাইরাস ছড়ায়, এর প্রায় সবই ইসলাম ধর্ম শুরু থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলাম নর-নারীর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাইরে কোনো দৈহিক মিলন অনুমোদন করে না। অবাধ যৌনাচার থেকে দূরে থাকাই এইডস থেকে মুক্তির সর্বোত্তম পথ। ব্যভিচার অনেক সামাজিক অনাচার ও বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য দায়ী। তাই ব্যভিচার বন্ধ করে বিবাহিত জীবনযাপনের জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। কেননা তা অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ। (সূরা বনি ইসরাইল ৩২)
ইসলামে মাদকদ্রব্য সেবন-গ্রহণ হারাম ও নিষিদ্ধ। চিকিৎসকদের মতে এইডস ছড়ানোর অন্যতম কারণ হলো সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা। আল্লাহ মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে সব ধরনের মদ ও নেশাজাত বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে আছে, ‘সব নেশাজাত দ্রব্যই মাদক এবং সব নেশাজাত দ্রব্যই হারাম।’ (মুসলিম)
এইডস প্রতিরোধে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলা কার্যকর একটি পদ্ধতি। ইসলামি অনুশাসন মানুষকে শুধু অসততা থেকেই রক্ষা করে তা নয়, বরং যাবতীয় খারাপ কাজ থেকেও বিরত রাখে। এজন্য সবার উচিত শিশুকাল থেকে প্রতিটি ছেলেমেয়েকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তোলা। আর মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে গেলে, রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয় তখন আল্লাহ তাআলার হুকুমে আরোগ্য লাভ হয়। (সহিহ মুসলিম: ৫৬৯৭)
অনেকে প্রশ্ন করেন, চিকিৎসা নেওয়া কি তাওয়াক্কুলবিরোধী কাজ নয়? এর উত্তর হলো- ‘না’। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক আহত ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। দেখে বললেন, তার জন্য অমুক গোত্রের চিকিৎসককে ডেকে আনো। (মুসনাদে আহমদ ৫/৩৭১)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিঙা লাগিয়েছেন এবং নাকে বিশেষ ঔষধ দিয়েছেন যেন হাঁচির মাধ্যমে রোগ সেরে যায়। (সহিহ বুখারি ৫৬৯১)
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ