মাত্র ৬০ ঘণ্টায় মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটিত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৩০ পিএম (ভিজিট : ৩০৩)
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে গৃহকর্মীর হাতে মা ও মেয়ের হত্যার প্রায় ৬০ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামি আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের দ্রুততম তৎপরতায় রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানায়, কাজে যোগ দেয়ার দ্বিতীয় দিন ২ হাজার টাকা চুরি করে। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে টাকার ব্যাপারে তর্ক হয় এবং চতুর্থ দিনে সে সুইচগিয়ার চাকু বাসায় নিয়ে আসে। পরে আফরোজা ফোনে তার স্বামীকে কল দিতে চাইলে আয়েশা পেছন থেকে ছুরি চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মা ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।”
তিনি আরও বলেন, “৮ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)কে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে আয়েশাকে শনাক্ত করা হয়, যদিও তার কোনো ছবি, এনআইডি বা মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে চেনা যায়নি, কারণ সে সব সময় বোরকা পরত।”
নজরুল জানান, “তদন্তকারী দল ম্যানুয়ালভাবে গত এক বছরে গৃহকর্মী দ্বারা সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো খুঁজে বের করে। গলায় পোড়া দাগ, পূর্বের চুরির তথ্য, হুমায়ুন রোডের একটি পুরনো মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে আয়েশার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে আশুলিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আয়েশার কাছ থেকে একটি চুরি করা ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।”
ডিএমপির কর্মকর্তা বলেন, “আয়েশা নিজের রক্তমাখা পোশাক বদল করে, নাফিসার স্কুল ড্রেসে বাসা থেকে বের হয় এবং ব্যাকপ্যাকে ল্যাপটপ ও ফোন নিয়ে যায়। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে এবং ঢাকা ছাড়ার সময় সিংগাইর ব্রিজ থেকে ফোন ও পোশাক ভর্তি ব্যাগ নদীতে ফেলে দেয়। পূর্বেও তার চুরির স্বভাব রয়েছে। হুমায়ুন রোডের ঘটনায় তাকে থানা পুলিশ আটক করেছিল।”
তিনি দেশের মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “যারা বাসায় গৃহকর্মী রাখেন, তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করুন। পরিচয়পত্র ও শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করে রাখুন। কারণ আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরাসরি প্রভাবিত হয়।”