ইবির ‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়

ইবি প্রতিনিধি:

শিক্ষা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন একটি দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে

2023-03-29T15:23:03+06:00
2023-03-29T15:23:03+06:00
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

ইবির ‘মুক্তবাংলা’ ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়
ইবি প্রতিনিধি:
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০২৩, ৩:২৩ পিএম   (ভিজিট : ৫৬৮)
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন একটি দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি  জাতির ইতিহাসে একটি স্বর্ণোজ্জ্বল ও গৌরবময় দিন। এই দিনে বাঙালি জাতির দামাল সন্তানেরা পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে। তাইতো দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে রচিত হয়েছে অনেক কবিতা, নাটক ও উপন্যাস। নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অসংখ্য চলচ্চিত্র।তারই ধারাবাহিকতায় ভাস্কর্যপ্রেমী শিল্পীদের রং তুলির আঁচড়ে গড়ে উঠেছে সংখ্যাতীত ভাস্কর্য।

এরই আদলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীট কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত হয়েছে 'মুক্ত বাংলা'। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ডান দিকে তাকালেই দৃষ্টি কাড়বে এই নয়নাভি-রাম শিল্পকর্মটি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি দাবী ছিল ক্যাম্পাসে  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি  ভাস্কর্য থাকবে। এরই প্রেক্ষিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চতুর্থ উপাচার্য মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক ১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। রশীদ আহমেদ ভাস্কর্যটির স্থাপত্য ও নকশা শিল্পী।

ভাস্কর্যটির সাতটি স্তম্ভ সংবলিত গম্বুজের ওপর রয়েছে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার রাইফেল নিয়ে, যা সাত সদস্যের ১৯৭১ সালের অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার প্রতীক। প্রতিটি স্তম্ভ বিস্তৃত প্রসারিত হাত ধরাধরি উল্লাসিত অবয়বে ইসলামী স্থাপত্য ভিত্তিক আর্চে নির্মিত হয়েছে। চোখে লাল সূর্য উদয়ের প্রত্যাশা সর্বনিম্নের বিস্তৃত সিরামিক বড় ইট লাগাতার আন্দোলনের নির্দেশক। উপর থেকে চতুর্থ ধাপে লাল সিরামিক ইট আন্দোলন ও যুদ্ধের প্রতীক, দ্বিতীয় ধাপে কালো পাথর শোক ও দুঃখের প্রতীক, তৃতীয় ধাপে সাদা মোজাইক সন্ধি ও যোগাযোগের প্রতীক।

বেদির মূল মেঝে সবুজ মোজাইক নীল টাইলস শান্তির প্রতীক। আর সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি সাতটি আর্চ সংবলিত একটি অর্ধ উদিত সূর্য বুঝানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতিক হিসেবে ভাস্কর্যটির নামকরণ করা হয় 'মুক্ত বাংলা'। এর প্রবেশ পথে রয়েছে একটি বৃত্তাকার কালো প্লেট যেখানে নির্মাণশৈলীর বর্ণনা দেওয়া আছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তুলে ধরছে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী এই ভাস্কর্যটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে অসংখ্য ভ্রমণ প্রিয় মানুষের বিচরন ঘটে ক্যাম্পাসে। ভাস্কর্যটিকে কেন্দ্র করে এর আশেপাশে গড়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।



ডেল্টা টাইমস্/ইদুল হাসান ফারহান/সিআর/এমই









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ