শুক্রবার ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

উন্নয়ন, অর্জন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ
রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৫:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের মাথায় এসে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সুপারিশ অর্জন করা বাংলাদেশের জন্য সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে শক্তিশালী করাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও তরুণদের অনেকে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠ ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগোষ্ঠিকে মুক্তি ও স্বাধীনতার পথ নির্দেশনা দিয়েছিল। আর তাই আজ হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এই কথাটি সাম্প্রতিক সময়ে বহুল উচ্চারিত,আমরা বলি,বিদেশিরাও বলে। আসলে এই কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কথায় যে বাস্তবতা প্রতিফলিত, তার জন্য আজ আমরা গর্বিত এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ নন্দিত। বস্তুত আর্থসামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশেরর অবস্থান আজ অভূতপূর্ব উচ্চতায় এবং যথেষ্ট স্বস্তির জায়গায়।

যেকোনো দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধরা হয় মানবসম্পদ। এতে বাংলাদেশ শুধু পাকিস্তান নয়, অনেক ক্ষেত্রে ভারত থেকেও অনেক এগিয়ে আছে। শিক্ষার হারের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে এখন শিক্ষার হার ৭৩.৯ শতাংশ। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে গেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ হারে বাংলাদেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সূচক এখন ২ শতাংশের নিচে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২.৫। স্বাধীনতার সময় যা ছিল মাত্র ৪০ বছরের কাছে। দরিদ্র সীমার নিচে থাকা নাগরিকের হার এখন বাংলাদেশে ২৪.৩ শতাংশ। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের হার বাংলাদেশে ৮৫.২ শতাংশ। করোনা মহামারি আঘাত হানার আগে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় হয়েছিল ৪০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। 

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে।এসবই হচ্ছে গত ৫০ বছরে স্বাধীন বাংলাদেশের অসামান্য অর্জন। গত বাংলাদেশ ২৬ ফেরুয়ারি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে সেই সুখবর জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের এই সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নিবন্ধে বলা হয়েছে, গত এক দশকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় রফতানি আয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৬ পয়েন্টের প্রয়োজন। বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭৫.৩। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন বাংলাদেশের এসব অর্জন একদিনে আসেনি। গত ৫০ বছরে পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে এসব অর্জনে সহায়তা করেছে বাংলাদেশের মানুষ। আমাদের আছে বিশাল জনশক্তি, সমৃদ্ধ কৃষি এবং মানুষের ইচ্ছাশক্তি। এগুলোর সমন্বয়েই আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। গত একদশকে রফতানি আয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় চাঙা অর্থনীতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশের এই উন্নয়ন, অর্জন, সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বিগত সময়ের মতো। ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের জন্য দেশটির জন্মের ৫০ বছরের মধ্যে দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখিয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি ও তথ্যের মাধ্যমে দেশের সম্প্রচার কার্যক্রম সমৃদ্ধ হচ্ছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ই-নথির প্রচলন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদনের বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পাদনের জন্য চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। এ ছাড়া তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। দেশের সব কটি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। এসব সফলতা বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নের ফল।দেশের জিডিপির হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। একটি দেশের অভ্যন্তরে নিন্দিষ্ট সময়ে যে পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয় তার মোট মূল্যই হচ্ছে জিডিপি। কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির শতকরা হারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জিডিপির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতির আকার ও শক্তি প্রকাশ পায়। বিশ্বব্যাপী এটাই অর্থনৈতিক সামর্থ্য নির্ণয়ের গ্রহণযোগ্য ও বহুল প্রচলিত পদ্ধতি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৩১৭৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে দাঁড়ায় ৮৬০৯১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮, ২০১৯ সালে জিডিপির হার ছিল যথাক্রমে ৮ ও ৭৯। ২০২১ সালে সম্ভাব্য হারে আশা করা যায় ৯৫। বাংলা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আসে প্রধানত পাঁচ খাত থেকে- উৎপাদন, পাইকারি-খুচরা ব্যবসা, পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি। আনুমানিক ৬৭ জিডিপি নির্ভর করে বাংলাদেশের উল্লিখিত পাঁচ খাতের ওপর।নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন মন্তব্য করেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে বিশেষ করে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম। ক্ষুদ্র আয়তনের উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। 

যোগ্য নেতৃত্ব ও যথাযথ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, বৈদেশিক বাণিজ্যের বিস্তৃতি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শক্তিশালী বাজার পরিকল্পনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানি, শিল্পায়ন প্রভৃতির কারণে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা নজিরবিহীন। এ ছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১০ মেগা প্রকল্প, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ হাতে নিয়েছে। আশা করা যায় খুব অল্প সময়ে সরকারের এসব মেগা প্রকল্পের সুফল দেশের মানুষ ভোগ করতে পারবে। যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। মেগা প্রকল্পগুলো হলো- ১ পদ্মা বহুমুখী সেতু ২ মেট্রোরেল ৩ পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ ৪ দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুনধুম পর্যন্তরেললাইন নির্মাণ ৫ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ৬ মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ৭ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ৮ কয়লাভিত্তিক রামপাল থারমাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ৯ পায়রা বন্দর নির্মাণ ও ১০ সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প। এ মেগা প্রকল্পের বাইরে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া উল্লেখ্য, দেশের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ হচ্ছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) মাধ্যমে। বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি চলমান ইপিজেডের মাধ্যমে বেপজা জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে আরও চারটি ইপিজেড নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়ে চলেছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে, কৃষিশিল্পের উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানও বেড়েছে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, মূলত প্রান্তিক পর্যায়ে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ৩৭তম এবং দ্রুতবর্ধনশীল দেশ হিসেবে পঞ্চম। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি উচ্চারিত নাম। বর্তমানে পাকিস্তান ও ভারত এ দুটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই শক্ত। বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি শক্ত অবস্থানে দাঁডাতে যেন পারে সে আশায় বাংলাদেশের জনগণ আজ বুক বেঁধে আছে। জন্মের পঞ্চাশ বছর পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে ক্ষুধা ও প্রায় দরিদ্র মুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের জোয়ারের কান্ডারি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি তাঁর পিতা বাঙালি জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। অন্তরের গভীর থেকে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধা ও তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘজীবী হোন। তিনি যেন বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতির একটি মর্যাদাপূর্ণ শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন। তা হলেই জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।উনিশ-শো একাত্তর সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য গতিশীল যোগ্য দক্ষ ও যথাযথ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে অর্থনীতির নানা সূচকে অর্থনৈতিকভাবে বাংলা দেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমৃদ্ধি, অগ্রগতি, উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। 

উনিশ-শো বাহাত্তর থেকে তেহাত্তর সালে বাংলাদেশের বাজেটের পরিমাণ ছিল সাতশো ছিয়াশি কোটি টাকা, আর চলতি দুই হাজার বিশ থেকে দুই হাজার একুশ সালের বাজেট পাঁচ লক্ষ আটষট্টি হাজার কোটি টাকা। উনিশ-শো বাহাত্তর থেকে তেহাত্তর সালের তুলনায় বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় সাতশো বাইশ গুণ। এর প্রতিফলন দেখা যায় বিদ্যুৎ, গ্রামীণ সড়কের ঘনত্ব, শিল্পায়ন, গৃহায়ন, নগরায়ন, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রভৃতি ক্ষেত্রে। সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দেশ পঞ্চাশ বছরে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, নারীর ক্ষমতায়ন, জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাসে ঈর্ষনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে দেশ। বিশ্ব ব্যাংকের মানবউন্নয়ন সূচকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে একশো চুয়াত্তর-টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছেচল্লিশ পয়েন্ট নিয়ে বাহান্ন-তম অবস্থানে।স্বাধীনতার সময় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। আমার বিশ্বাস সেই কিসিঞ্জার যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনিই এখন বাংলা দেশের উন্নয়ন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। এখন আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করে বলতে পারি সেই তলাবিহীন ঝুড়ি আজ বিশ্বের বিস্ময়,উন্নয়নের এক রোল মডেল। তার পরও বলি,দেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে সেই কাঠামোর মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। প্রাকৃতিক যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশে তা থেকে উত্তরণটা হবে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। ওদিকে সরকারিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্থাৎ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উপাত্ত দেয়া হলেও প্রযুক্তির বিকাশকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উৎসে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের মৌলিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করাই হবে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট ।





ডেল্টা টাইমস্/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/আরকে

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।

ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো: আমিনুর রহমান
প্রধান কার্যালয়: মহাখালী ডিওএইচএস, রোড নং-৩১, বাড়ী নং- ৪৫৫, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত
২১৯ ফকিরাপুল (১ম লেন নীচ তলা), মতিঝিল থেকে প্রকাশিত।  বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২ জামান টাওয়ার (১৫ তলা), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২-৪৭১২০৮৬১, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : [email protected], [email protected]